এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৯:০১ পিএম

বাংলাদেশের হয়ে যুব বিশ্বকাপে এমন এক জ্বলজ্বলে তারকা উঠে এসেছেন, যিনি একাই ভারতকে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন! আল ফাহাদ নামের এই যুবা ফাস্ট বোলার শুক্রবার আইসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপে দারুণ এক দিন কাটিয়েছেন। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচজয়ী ৫ উইকেট শিকার করে পুরো টুর্নামেন্টে নিজের নামটা আলাদা করে লিখিয়ে নিয়েছেন তিনি।
আল ফাহাদ যাঁকে আদর্শ মানেন, তিনি হলেন অস্ট্রেলিয়ার দ্রুতগতির বোলার মিচেল স্টার্ক। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথাই জানিয়েছিলেন। স্টার্ক যেমন অ্যাশেজ সিরিজে শুরুতেই ইংল্যান্ডের ব্যাটসম্যানদের ঘায়েল করতে সিদ্ধহস্ত, তেমনি ফাহাদও আজ ভারতীয় ইনিংসের শুরুতেই ধাক্কা দিয়েছেন। ম্যাচের তৃতীয় ও নিজের দ্বিতীয় ওভারেই তিনি আয়ুষ মাহাত্রে ও বেদন্ত ত্রিবেদীকে প্যাভিলিয়ন ফেরান, এবং হ্যাটট্রিকের সুযোগও তৈরি করেন।
শুরুতে দুটি উইকেট নেওয়ার পর ইনিংসের শেষভাগে আবারও ঝড় তোলেন ফাহাদ। যখন ভারত ২৫০ রানের লক্ষ্যে খেলছিল, তখন তিনি আরও তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। মোট ৫ উইকেট নিয়ে পুরো ম্যাচের গতিপথই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন তিনি।
জাতীয় দলের তারকা পেসার তাসকিন আহমেদ আরেকজন যাকে তিনি অনুসরণ করেন। মজার ব্যাপার হলো, তাসকিন আহমেদের মতোই ফাহাদেরও ক্রিকেট জীবনে চোট ছিল নিত্যসঙ্গী। ২০২৩ সালে চোটের কারণে তিনি যুব ক্রিকেট লিগ খেলতে পারেননি, এবং হতাশ হয়ে ক্রিকেট ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পরিবারের অকুণ্ঠ সমর্থন এবং কোচদের অনুপ্রেরণায় তিনি আবারো ক্রিকেটে ফিরে আসেন।
শুক্রবারের ম্যাচেও সেই পুরনো চোটের ছায়া তাকে তাড়া করছিল। ম্যাচের ৩৯তম ওভারে মাত্র চারটি বল করেই তাকে মাঠ ছেড়ে যেতে হয়। কিন্তু বীরের মতো ফিরে এসেই তিনি ভারতের লেজের ব্যাটসম্যানদের শেষ করেন, এবং বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন।
পড়াশোনায়ও সেরা
ক্রিকেট মাঠের বাইরেও আল ফাহাদ একজন মেধাবী ছাত্র। এসএসসি এবং এইচএসসি দুটোতেই তিনি উৎকর্ষতার পরিচয় দিয়েছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ছেন। তার বাবা জাকির হোসেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটে কর্মরত। তিনিই ফাহাদকে ক্রিকেটের জগতে নিয়ে আসেন এবং নিজ হাতে মৌলভীবাজার ক্রিকেট একাডেমিতে ভর্তি করিয়ে দেন। সেই একাডেমি থেকে ধাপে ধাপে উঠে এসে আল ফাহাদ আজ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে বাংলাদেশের জয়ের নায়ক!