ঢাকা, বুধবার, মার্চ ১১, ২০২৬ | ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

"মধ্যপ্রাচ্যে টেনশন বাড়ছে! ইসরায়েল পেল আমেরিকার নতুন ৩টি এফ-৩৫, পাকিস্তানের বড় অস্ত্র চুক্তি"


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

"মধ্যপ্রাচ্যে টেনশন বাড়ছে! ইসরায়েল পেল আমেরিকার নতুন ৩টি এফ-৩৫, পাকিস্তানের বড় অস্ত্র চুক্তি"

পশ্চিম এশিয়া উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। ঠিক এই সময়ে, মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক সাহায্য আরও বাড়ল। ইসরায়েল পেল যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে আরও তিনটি অত্যাধুনিক এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান। অন্যদিকে, পাকিস্তানও বড় অস্ত্র চুক্তি করার পথে, যেখানে ইন্দোনেশিয়াকে যুদ্ধবিমান ও ড্রোন বিক্রি করবে তারা।

ইসরায়েল পেল নতুন যুদ্ধবিমান
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের মধ্যে থাকা ১০ বছর মেয়াদি সামরিক সহায়তা চুক্তি অনুযায়ী, লকহিড মার্টিন নির্মিত ‘আদির’ মডেলের এই তিনটি এফ-৩৫ ইসরায়েলের দখলকৃত ভূখণ্ডের দক্ষিণে অবস্থিত 'নেভাতিম' বিমানঘাঁটিতে পৌঁছেছে। এই ঘাঁটিটি ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর সবচেয়ে বড় ও গুরুত্বপিশালী ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। নতুন এই বিমানগুলো ইসরায়েলের ১১৬ ও ১৪০ নম্বর স্কোয়াড্রনে যুক্ত হয়েছে।

নেতানিয়াহুর আমেরিকা সফর
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহু সম্প্রতি আমেরিকা সফরে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে তিনি আরও এফ-৩৫ ও এফ-১৫ বিমানের স্কোয়াড্রন কেনা, যুদ্ধ ও পরিবহন হেলিকপ্টার সংগ্রহ এবং ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা উন্নয়নে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি অংশগ্রহণের দাবি জানান।

আমেরিকার প্রতিশ্রুত সাহায্য
যুক্তরাষ্ট্র ১০ বছর মেয়াদি চুক্তিতে প্রতিবছর ইসরায়েলকে ন্যূনতম ৩৮০ কোটি ডলার সামরিক সাহায্য দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান বহরে ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এফ-১৫, এফ-১৬ ও এফ-৩৫ রয়েছে। এছাড়াও, গাজায় সাম্প্রতিক হামলার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে কয়েক দশক হাজার বোমা ও ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করেছে।

পাকিস্তান-ইন্দোনেশিয়া বড় অস্ত্র চুক্তির পথে
এদিকে, ভিন্ন অঞ্চলে আরেকটি বড় অস্ত্র চুক্তি হচ্ছে। ইন্দোনেশিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল জাফরি শামসুদ্দিন ইসলামাবাদে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদনমন্ত্রী, বিমান বাহিনী প্রধান ও প্রতিরক্ষা বাহিনী প্রধানের সাথে আলাদা আলাদা বৈঠক করেছেন। এই চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে আছে, যেখানে পাকিস্তান ইন্দোনেশিয়াকে বহু যুদ্ধবিমান ও সামরিক ড্রোন বিক্রি করবে।

পাকিস্তানের আঞ্চলিক অস্ত্র বাজার দখলের চেষ্টা
পাকিস্তান আন্তর্জাতিক অস্ত্র বাজারে নিজের অবস্থান শক্ত করতে ব্যস্ত। ইতিমধ্যেই তারা পূর্ব লিবিয়ার জাতীয় সেনাবাহিনী ও সুদানের সেনাবাহিনীর সঙ্গেও অস্ত্র সরবরাহের আলোচনা করছে। নিরাপত্তা সূত্র জানায়, ইসলামাবাদ ইন্দোনেশিয়ার সাথে জেএফ-১৭ থান্ডার যুদ্ধবিমান, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বিক্রি এবং তাদের বিমান বাহিনীর কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ নিয়েও আলোচনা করছে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি আরব, লিবিয়া, সুদান, ইরাক ও আজারবাইজানও পাকিস্তানের কাছ থেকে অস্ত্র কেনার কথা ভেবেছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক অস্ত্র রপ্তানিকারক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাইছে।