এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২০ জানুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০১ পিএম

মধ্যপ্রাচ্যে এখন যুদ্ধ নাকি শান্তি, তা নিয়ে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ক্রমাগত তাদের সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে, অন্যদিকে ইরানকে নিয়ে নতুন যুদ্ধের ছক কষছে বলে অভিযোগ উঠছে ওয়াশিংটনের বিরুদ্ধে। প্রশ্ন হলো, এই উত্তপ্ত পরিবেশে কে প্রথম আঘাত হানবে? নাকি ইরানই প্রতিরোধমূলক প্রথম ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়বে?
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ফ্র্যাঙ্কলিন ডি. রুজভেল্ট বলেছিলেন, "যদি কখনো দেখেন একটি র্যাটলস্নেক (বিষাক্ত সাপ) আপনাকে কামড়ে দেওয়ার জন্য প্রস্তুত, তখন আপনার কাজ হলো—কামড় দেওয়ার আগেই সেটিকে মেরে ফেলা।" বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র হয়তো ইরানকে ঠিক এমনই একটি 'র্যাটলস্নেক' হিসেবেই দেখছে, যাকে আগেভাগে ধ্বংস করাই তাদের লক্ষ্য। ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে বিমান হামলা বাতিল করলেও পারস্য উপসাগরে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন, যা সংঘাতের ইঙ্গিত দেয়।
যুক্তরাষ্ট্রের 'অবাস্তব' শর্ত
ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে যে আলোচনা করেছেন, তাতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, ক্ষেপণাস্ত্রের মজুত কমানোর মতো নানা দাবি তোলা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, এগুলো কোনো আলোচনার প্রস্তাব নয়, বরং ইরানের কাছে নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের দাবি। ওয়াশিংটন জানে ইরান এগুলো মানবে না, এবং তখনই তারা বলবে, "ইরান সৎভাবে আলোচনা করতে অস্বীকার করেছে" – আর এটাকেই যুদ্ধের অজুহাত বানানো হবে।
ইরানের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত
ইরানের সামরিক নীতি সবসময়ই প্রতিরক্ষামূলক বলে দাবি করা হলেও, সম্প্রতি তাদের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বক্তব্যে পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে। ২০২৫ সালের আগস্টে, সর্বোচ্চ নেতার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা ইয়াহিয়া সাফাভি বলেছেন, "আমাদের আক্রমণাত্মক কৌশল গ্রহণ করতে হবে।" এর আগে জানুয়ারিতেই ইরানের প্রতিরক্ষা কাউন্সিল স্পষ্ট জানায়, তারা শুধু আক্রমণের পরই নয়, বরং আসন্ন হুমকিকেও তাদের নিরাপত্তা কাঠামোর অংশ হিসেবে বিবেচনা করবে।
'প্রি-এম্পটিভ ওয়ার' বা আগেভাগে আঘাত কি?
এটি হলো এমন একটি সামরিক কৌশল, যেখানে স্পষ্ট ও আসন্ন হুমকির মুখে পড়ার আগেই প্রতিরোধমূলক আঘাত হানা হয়। এর সবচেয়ে বিখ্যাত উদাহরণ ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধ। তখন তিরান প্রণালি অবরোধ এবং প্রতিবেশী আরব দেশগুলোর সেনা সমাবেশের মুখে ইসরাইলই প্রথম হামলা চালিয়েছিল। এই প্রণালিটি সৌদি আরব ও মিসরের মাঝে অবস্থিত, যা জর্ডান ও ইসরাইলের জন্য সমুদ্রপথে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ?
ইসরায়েলের আক্রমণাত্মক নীতির বিপরীতে ইরান দীর্ঘদিন সংযম দেখালেও, এখন তাদের উচ্চপদস্থ ব্যক্তিরা আক্রমণাত্মক কৌশলের কথা বলছেন। অন্যদিকে, আমেরিকা চাইছে ইরানকে যেকোনো মূল্যে দুর্বল করতে। এমন টানটান পরিস্থিতিতে একটি ছোট ঘটনাই বড় যুদ্ধের সূচনা করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা।