এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ২৭ জানুয়ারী, ২০২৬, ১০:০১ এএম
রাজশাহীতে বিপিএল চ্যাম্পিয়ন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সকে ছাদখোলা বাসে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ছাদখোলা বাসে চড়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করেন অধিনায়ক শান্ত ও অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিমসহ দলের ক্রিকেটাররা।
এ সময় ক্রিকেটপ্রেমী রাজশাহীবাসী ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় তাদের বরণ করে নেন। রাস্তার দুই পাশে ভিড় করে দাঁড়িয়ে অনেকেই হাত নেড়ে, মোবাইলে ভিডিও আর ছবি তুলে স্মরণীয় মুহূর্ত ধরে রাখেন।
বিপিএলে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সোমবার সকালেই রাজশাহীতে পৌঁছায় রাজশাহী ওয়ারিয়র্স। সকাল সাড়ে ১০টায় ক্রিকেটাররা হযরত শাহ মখদুম (র.) বিমানবন্দরে নামেন। আগে থেকেই সেখানে প্রস্তুত ছিল ছাদখোলা বাস। ক্রিকেটাররা বিপিএল ট্রফি হাতে নিয়ে বাসে ওঠেন, শুরু হয় উৎসবের রঙিন যাত্রা।
পুলিশ স্কটের মাধ্যমে ছাদখোলা বাসটি শহরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। বাসের সামনে ছিলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের মালিক নাবিল গ্রুপের শীর্ষ কর্মকর্তারা। চারপাশে অসংখ্য মোটরসাইকেলে ক্রিকেটপ্রেমীরা বাসটিকে ঘিরে রাখেন। তাদের হাতে ছিল ‘গর্বের জয়’, ‘বীরের শহর’, ‘জয় এসেছে কাপ উঠেছে’ লেখা প্ল্যাকার্ড। ছাদখোলা বাসের সামনে বড় করে লেখা ছিল— ‘কাপ আইসিছে বাড়িতে’।
বিমানবন্দর থেকে বাসটি রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়ক ধরে আমচত্বর, বিমানচত্বর, রুয়েট ফ্লাইওভার হয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে পৌঁছায়। সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ফুল ছিটিয়ে ক্রিকেটারদের স্বাগত জানান।
উচ্ছ্বাসের মুহূর্তে অনেকেই নিজেদের পরনের শার্ট, টি-শার্ট কিংবা সোয়েটার খুলে ছুড়ে দেন ক্রিকেটারদের দিকে। ক্রিকেটাররা সেগুলোতে অটোগ্রাফ দিয়ে আবার ফিরিয়ে দেন। মাঝেমধ্যেই অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও মুশফিকুর রহিম বিপিএল ট্রফি উঁচু করে ধরেন। তখন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আনন্দে ফেটে পড়েন সমর্থকরা। সেই আনন্দে বাসের ওপরেই নাচতে দেখা যায় শান্ত-মুশফিকদের।
বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ছাড়িয়ে বাসটি তালাইমারী, সাহেববাজার হয়ে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুলের সামনে পৌঁছায়। সেখানেও শিক্ষার্থীরা ক্রিকেটারদের সংবর্ধনা জানান। একই চিত্র দেখা যায় রাজশাহী কলেজের সামনেও। পরে বাসটি লক্ষ্মীপুর ঘুরে দড়িখড়বোনা, রেলগেট, আমচত্বর হয়ে পবায় নাবিল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্কে গিয়ে যাত্রা শেষ করে।
ছাদখোলা বাসে শহর প্রদক্ষিণের পুরো সময়জুড়েই পথে পথে অসংখ্য মানুষ হাত উঁচিয়ে শুভেচ্ছা জানান। অনেকেই দূর থেকেই ক্রিকেটারদের সঙ্গে সেলফি তুলে এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত স্মৃতিতে ধরে রাখেন।