ঢাকা, শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬ | ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

মৃত্যু নিয়ে ঘন রহস্য! লিবিয়ায় গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামের নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ লাশ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

মৃত্যু নিয়ে ঘন রহস্য! লিবিয়ায় গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলামের নিজ বাড়িতে গুলিবিদ্ধ লাশ

লিবিয়ায় ঘটে গেল এক চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড। দেশটির সাবেক স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির ছেলে সাইফ আল-ইসলাম গাদ্দাফি গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। আল জাজিরার লিবিয়া প্রতিনিধি আহমেদ খলিফা মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, লিবিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর জিনতানে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে সাইফ আল-ইসলামকে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ফাওয়াসেল মিডিয়া আরও বিস্তারিত জানায়, রাজধানী ত্রিপোলির দক্ষিণ-পশ্চিমে প্রায় ১৩৬ কিলোমিটার দূরে জিনতান শহরে নিজের বাড়িতেই একদল সশস্ত্র লোকের হামলায় তিনি প্রাণ হারান। গত এক দশক ধরে এই শহরটিকেই নিজের ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহার করছিলেন তিনি।

সাইফ আল-ইসলামের বয়স ছিল ৫৩ বছর। তার রাজনৈতিক উপদেষ্টা আবদুল্লাহ ওসমান এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করলেও, এই হত্যাকাণ্ড কীভাবে বা কাদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে, সে ব্যাপারে কোনো স্পষ্ট তথ্য এখনও জানা যায়নি। লিবিয়ার কর্তৃপক্ষও এখন পর্যন্ত এই ঘটনা সম্পর্কে কোনো সরকারি বক্তব্য দেয়নি।

সাইফ আল-ইসলামের লিবিয়ায় কোনো আনুষ্ঠানিক সরকারি পদ না থাকলেও, ২০০০ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি তার বাবা মুয়াম্মার গাদ্দাফির পর দেশটির সবচেয়ে ক্ষমতাধর ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

২০১১ সালে লিবিয়ায় গণঅভ্যুত্থানের সময় বিদ্রোহীদের হাতে মুয়াম্মার গাদ্দাফি নিহত হন। ত্রিপোলি বিদ্রোহীদের দখলে চলে যাওয়ার পর, লিবিয়া থেকে পালানোর চেষ্টা করার সময় ২০১১ সালেই সাইফ আল-ইসলাম জিনতানে আটক হন এবং পরে কারাগারে বন্দি হন। ২০১৭ সালে একটি সাধারণ ক্ষমার আওতায় তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।

পশ্চিমা শিক্ষায় শিক্ষিত এবং একজন বাগ্মী বক্তা হিসেবে পরিচিত সাইফ আল-ইসলাম নিজেকে তার বাবার কঠোর শাসনের একটি 'প্রগতিশীল ও আধুনিক মুখ' হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করতেন। ২০০০-এর দশকের শুরুর দিকে পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে লিবিয়ার কূটনৈতিক সম্পর্ক পুনরুদ্ধারে তার ভূমিকা ছিল অগ্রগণ্য। তিনি ২০০৮ সালে লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিক্স (এলএসই) থেকে পিএইচডি ডিগ্রিও অর্জন করেছিলেন। তার এই হত্যাকাণ্ড লিবিয়ার অস্থির রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি করবে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।