ঢাকা, শনিবার, মার্চ ১৪, ২০২৬ | ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

কানাডার সংসদে ইতিহাস! বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম পেলেন লিবারেল দলের এমপি মনোনয়ন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

কানাডার সংসদে ইতিহাস! বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম পেলেন লিবারেল দলের এমপি মনোনয়ন

কানাডার রাজনীতিতে বাংলাদেশি কমিউনিটির জন্য তৈরি হলো আরেকটি গর্বের মুহূর্ত। কানাডার টরন্টোর স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনে সংসদ সদস্য (এমপি) মনোনয়ন পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ডলি বেগম। দেশটির ক্ষমতাসীন লিবারেল পার্টির প্রার্থী হিসেবে এই আসনের আসন্ন উপ-নির্বাচনে লড়বেন তিনি।

দীর্ঘদিন ধরেই এই আসনটি লিবারেল পার্টির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সাবেক মন্ত্রী বিল ব্লেয়ারের সংসদ থেকে সরে দাঁড়ানোয় আসনটি খালি হয়েছিল। কানাডার স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে লিবারেল পার্টি অব কানাডার পক্ষ থেকে জানানো হয়, স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসনের প্রার্থী হবেন ডলি বেগম। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বাধীন লিবারেল দলের হয়ে তিনি নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ডলি বেগম ইতিমধ্যেই একটি ইতিহাসের অংশ। ২০১৮ সাল থেকেই তিনি এই স্কারবোরো সাউথওয়েস্টের প্রাদেশিক সংসদ সদস্য (এমপিপি) হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন এবং তিনিই কানাডার আইনসভায় নির্বাচিত প্রথম বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত এমপিপি।

কুইন্স পার্কে (অন্টারিও প্রাদেশিক সংসদ) তিনি শুধু একজন আইনপ্রণেতাই নন, ছিলেন অন্টারিও এনডিপি দলের ডেপুটি লিডার এবং বিরোধী দলের একজন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর। পরপর তিনবার বিশাল ব্যবধানে জয়ী হয়ে তিনি তার নির্বাচনী এলাকার মানুষের হৃদয় জয় করেছেন।

লিবারেল পার্টি অব কানাডার প্রেসিডেন্ট সাচিত মেহরা এই মনোনয়ন নিয়ে বলেন, "ডলি বেগমের জনসেবার রেকর্ড অতুলনীয়। তিনি কেবল একজন দক্ষ রাজনীতিক নন, বরং সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার মূর্ত প্রতীক। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নতুন টিমে ডলি বেগমের মতো নেতৃত্বের সংযুক্তি কানাডাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।"

এমন ঐতিহাসিক পদক্ষেপের পেছনের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ডলি বেগম তার বিবৃতিতে প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রতি আস্থার কথা জানান। তিনি বলেন, "আমি গত সাত বছর ধরে স্কারবোরো সাউথ-ওয়েস্টের মানুষের জন্য লড়াই করেছি। তবে দেশের এই ক্রান্তিলগ্নে আমার মনে হয়েছে, আরও শক্তিশালী ও স্বাধীন অর্থনৈতিক কাঠামো গড়ার জন্য কেন্দ্রীয় পর্যায়ে কাজ করা প্রয়োজন। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির নেতৃত্বে আমি সেই লক্ষ্য অর্জন করতে চাই।"

তিনি জানান, জীবনযাত্রার ব্যয় কমানো, সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করা এবং কানাডাকে একটি ঐক্যবদ্ধ ও সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ নিতে তিনি পুরোপুরি প্রস্তুত।

ডলি বেগমের শিকড় বাংলাদেশের মৌলভীবাজারে, মনু নদের পাড়ে। বাবা রাজা মিয়া ও মা জবা বেগমের সঙ্গে মাত্র ১২ বছর বয়সে তিনি কানাডায় পাড়ি জমান। টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে স্নাতক শেষ করে তিনি লন্ডনের বিশ্বখ্যাত ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) থেকে উন্নয়ন প্রশাসন ও পরিকল্পনায় স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

টরন্টো প্রবাসী বিশিষ্ট কমিউনিটি ব্যক্তিত্ব দেলোয়ার এলাহী বলেন, "লিবারেল পার্টি ও প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির এই সিদ্ধান্তে আবারও প্রমাণিত হয়, দল নয়, ব্যক্তির সততা, কর্মদক্ষতা, জনসংযোগ এবং কানাডার বহুজাতিক মূল্যবোধ ধারণকারী রাজনৈতিক মানুষই এখানে মূল চালিকাশক্তি। ডলি বেগম সে ক্ষেত্রে সর্বাগ্রগণ্য গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছেন।"

রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাদেশিক রাজনীতি থেকে ফেডারেল রাজনীতিতে ডলি বেগমের এই উত্তরণ তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে। পাশাপাশি, তার এই সাফল্য কানাডায় বসবাসরত বাংলাদেশিদের, বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মের জন্য মূলধারার রাজনীতিতে অংশগ্রহণের একটি বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।