এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৮:০২ পিএম

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান সরাসরি আক্রমণ করেছেন সরকার ও ক্ষমতাসীন দলকে। তিনি বলেছেন, দেশে স্বৈরাচারের মতোই একদল 'গুপ্ত' শক্তি এখন নতুন জালিমে পরিণত হয়েছে, যাদের কাছে দেশের নারী সমাজও নিরাপদ নয়।
বুধবার বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভায় তিনি এই কঠোর ভাষণ দেন। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই দেশ চলবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'আগামী ১২ তারিখ জনগণ তাদের জবাবদিহি করতে পারে এমন সরকারই বেছে নেবে। কিন্তু ৫ আগস্টের পর আমি দেখেছি, স্বৈরাচাররা যেভাবে মানুষকে ছোট করত, গুণীজনদের অপদস্ত করত, সেই একই রীতিই এখনও চলছে।'
তারেক রহমান দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, 'একটি দল আছে যারা গুপ্ত পরিচয়ে পরিচিত। এই গুপ্তরাই এখন দেশের মানুষের কাছে নতুন জালিম হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। অত্যন্ত কষ্ট ও ঘৃণার সঙ্গে দেখছি, এই জালেমদের নেতা প্রকাশ্যে নারীদের নিয়ে অত্যন্ত কলঙ্কজনক ও অসভ্য শব্দ ব্যবহার করেছেন। যে নেতা-কর্মীরা মা-বোনদের প্রতি সম্মান বা শ্রদ্ধা দেখায় না, তাদের কাছে বাংলাদেশের মানুষ কোনও সম্মানজনক আচরণ আশা করতে পারে না। তাদের কাছে মানুষের কোনও মর্যাদাই নেই।'
তিনি আরও একটি ঘটনার উল্লেখ করেন, 'গুপ্তদের কুমিল্লা জেলার একজন নেতা বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরবেন, আর ১২ তারিখের পর জনগণ তাদের পা ধরবে। এরা কোন পর্যায়ের মানুষ, যে জনগণকে এভাবে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে? তাদের মানসিকতা কোন স্তরের, সেটা তাদের কথাতেই প্রকাশ পেয়েছে।'
তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, 'এরা যদি কখনো ক্ষমতায় আসে, তাহলে জনগণের জীবনে কত দুর্বিষহ দিন নেমে আসতে পারে, তা সহজেই অনুমান করা যায়। তাই এদের সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে এবং এদের উপযুক্ত শিক্ষা দিতে হবে।'
তারেক রহমান ঐতিহাসিক প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই 'গুপ্ত' শক্তি সব সময়ই স্বৈরাচারী সরকারের পাশে থেকেছে। '৭১, '৮৬, '৯৬ এবং গত ১৫ বছর – সবসময়ই তারা স্বৈরাচারের সাথে হাত মিলিয়েছে। তারা আসলে মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।'
বরিশালের স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, 'বরিশালের সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন। এখানে স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। অনেক কাজ বাকি আছে, সেগুলো করতে হলে জনগণকে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।'
তিনি দাবি করেন, বিএনপি সরকার ক্ষমতায় এলে এসব অসম্পূর্ণ কাজ শেষ করার পাশাপাশি জমে থাকা সমস্যার দ্রুত সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, 'নারীদের ঘরে বন্দী রেখে দেশকে সামনে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। নারী-পুরুষকে একসাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই কাজ করতে হবে। তা না হলে কখনোই কাঙ্খিত উন্নত দেশ গড়ে উঠবে না।'
তারেক রহমান তার বক্তব্য শেষ করেন এই বলে যে, 'গুপ্ত দলগুলো নারী সমাজ সম্পর্কে যা অপমানজনক ও বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্য করেছে, তা তাদের আসল চরিত্রই প্রকাশ করে। জনগণকে তারা তুচ্ছজ্ঞান করে, যা তাদের নিচু মানসিকতার পরিচয় দেয়। এমন শক্তি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের জীবনে নেমে আসবে ভয়াবহ দুর্দশা।'