ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে নাটকীয় টানাপোড়েন, পর্দার আড়ালে সমঝোতায় আইসিসি–পিসিবির গোপন দৌড়ঝাঁপ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:০২ পিএম

ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে নাটকীয় টানাপোড়েন, পর্দার আড়ালে সমঝোতায় আইসিসি–পিসিবির গোপন দৌড়ঝাঁপ

২০২৬ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বহুল আলোচিত ভারত–পাকিস্তান গ্রুপ ম্যাচ ঘিরে তৈরি হওয়া জটিলতা কাটাতে পর্দার আড়ালে আলোচনা চালাচ্ছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ও পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। এমনটাই জানিয়েছে ক্রীড়া বিষয়ক নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ইএসপিএন ক্রিকইনফো।

প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তান সরকারের নির্দেশে আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোয় ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত ম্যাচটি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। তবে বিশ্বকাপের বাকি ম্যাচগুলোতে অংশ নেবে তারা। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, বাংলাদেশকে সমর্থন জানাতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ভারতে গিয়ে খেলতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে বাংলাদেশকে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়া হয়। ভারত ও শ্রীলঙ্কা যৌথভাবে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের জায়গায় সুযোগ পায় স্কটল্যান্ড।

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের বিষয়ে পিসিবি প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য না করলেও, পাকিস্তান সরকারের ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে ঘোষণার পর আইসিসি এক বিবৃতিতে জানায়—সব পক্ষের স্বার্থ বিবেচনায় নিয়ে ‘পারস্পরিক গ্রহণযোগ্য সমাধান’ বের করতে তারা পিসিবির কাছ থেকে সহযোগিতা আশা করছে।

এই সমাধানের লক্ষ্যেই নিয়মিত যোগাযোগ চলছে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা, আইসিসি বোর্ড সদস্য ও আমিরাত ক্রিকেট বোর্ডের প্রতিনিধি মুবাশির উসমানি এবং পিসিবি চেয়ারম্যান মাহসিন নাকভি ও তার জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা সালমান নাসিরের মধ্যে। সালমান নাসির একই সঙ্গে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।

বয়কটের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসার এক সপ্তাহ আগেই আলোচনার সূত্রপাত হয়। তখন মাহসিন নাকভি প্রথম ইঙ্গিত দেন যে পাকিস্তানের অংশগ্রহণ পুরোপুরি সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। সে সময় রাষ্ট্রীয় সফরে সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে তিনি আইসিসি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ইমরান খাজার সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন বলে জানা যায়। বর্তমানে খাজা সিঙ্গাপুরে অবস্থান করলেও, পাকিস্তানে থাকা নাকভির সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

শুরুতে আইসিসি পাকিস্তান পুরো টুর্নামেন্ট থেকে সরে গেলে সম্ভাব্য শাস্তির বিষয়টি তুলে ধরলেও, পিসিবির পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়—এই সিদ্ধান্ত আর্থিক ক্ষতির প্রশ্ন নয়। বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার পর নাকভি আইসিসির বিরুদ্ধে ‘দ্বিমুখী নীতি’ অনুসরণের অভিযোগ তোলেন এবং বাংলাদেশের সঙ্গে ‘অন্যায় আচরণ’-এর কথাও বলেন।

তবে বয়কট ঘোষণার পর আইসিসির মূল লক্ষ্য এখন পিসিবির অভিযোগগুলোর সমাধান করে শেষ পর্যন্ত ভারত–পাকিস্তান ম্যাচটি মাঠে গড়ানো নিশ্চিত করা। অতীতেও পিসিবি, বিসিসিআই ও আইসিসির মধ্যকার নানা জটিল পরিস্থিতিতে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা রেখেছেন ইমরান খাজা।