এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:০২ পিএম

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট না করতে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) প্রতি জোরালো অনুরোধ জানিয়ে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের (এসএলসি) সভাপতি শাম্মি সিলভা। চিঠিতে তিনি এই ম্যাচ না খেললে আর্থিক ও ক্রীড়াজগতের উপর মারাত্মক প্রভাবের কথা বলার পাশাপাশি, পাকিস্তান ক্রিকেটের সঙ্কটকালে শ্রীলঙ্কার দেওয়া সাহায্যের কথাও মনে করিয়ে দিয়েছেন।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ক্রিকেট বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই ম্যাচটি যদি বাতিল হয়ে যায়, তাহলে শুধু টুর্নামেন্টই নয়, পাকিস্তানের নিজের অর্থনীতিতেও বড় ধরনের ধাক্কা লাগবে। বিশেষ করে সম্প্রচার স্বত্ব, স্পনসরশিপ এবং ক্রিকেট থেকে আসা রাজস্বে বিশাল ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে এসএলসি।
শাম্মি সিলভা চিঠিতে ২০০৯ সালের ৩ মার্চের ভয়াবহ সেই দিনটির কথাও স্মরণ করিয়ে দেন, যখন লাহোরে টেস্ট খেলতে যাওয়ার পথে শ্রীলঙ্কা দলের বাসে সন্ত্রাসী হামলা চালানো হয়েছিল। সেই ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান শ্রীলঙ্কার ক্রিকেটাররা। ওই হামলার পর প্রায় ছয় বছর নিজের মাঠে কোন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট আয়োজন করতে পারেনি পাকিস্তান।
২০১৫ সালে জিম্বাবুয়ের সফরের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরার যাত্রা শুরু করে পিসিবি। তবে বড় দল হিসেবে প্রথমেই পাকিস্তান সফরে গিয়ে পাশে দাঁড়ায় শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট দল। এরপর ধীরে ধীরে পাকিস্তানের মাঠে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের রমরমা ফিরতে শুরু করে।
এসএলসির চিঠিতে বলা হয়, পাকিস্তানের সেই কঠিন সময়ে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বারবার ঝুঁকি নিয়ে সেখানে সফর করেছে এবং সত্যিকারের বন্ধুর মতো পাশে দাঁড়িয়েছে। সেই পারস্পরিক সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের খাতিরেই এবার পাকিস্তানকে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্তটি আবার ভেবে দেখতে অনুরোধ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশকে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ না খেলার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান সরকার। তবে এই বিষয়ে এখনও পর্যন্ত পিসিবির পক্ষ থেকে কোন রকমের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি।
শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট আরও জানায়, বিশ্বকাপের সহ-আয়োজক হিসেবে তারা ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ আয়োজনের জন্য ব্যাপকভাবে উৎসাহিত। ইতোমধ্যে ম্যাচের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করা হয়েছে এবং টিকিটের সব কাটতি শেষ। দর্শকদের মধ্যেও এই ম্যাচটি নিয়ে ব্যাপক উত্তেজনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
এসএলসি সতর্ক করে জানায়, ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্ধারিত এই ম্যাচটি যদি না হয়, তাহলে তা শ্রীলঙ্কার পর্যটন শিল্পের জন্যও বড় ধরনের ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। পাশাপাশি, আয়োজক দেশ এবং বিশ্বকাপের সামগ্রিক সফলতাও ব্যাহত হবে।
চিঠির শেষে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে খেলার জন্য পুনরায় অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়, এতে বিশ্বকাপের মর্যাদা বজায় থাকবে এবং সারা বিশ্বের কোটি কোটি ক্রিকেট ভক্তের আশাও পূরণ হবে। এখন দেখার বিষয়, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের এই আবেদনে পিসিবি কী সিদ্ধান্ত নেয়।