ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ | ৩ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কেন বলেছিলেন তারেক রহমান—নির্বাচনী মঞ্চে বিএনপির বড় রোডম্যাপ প্রকাশ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ১০:০২ পিএম

‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’ কেন বলেছিলেন তারেক রহমান—নির্বাচনী মঞ্চে বিএনপির বড় রোডম্যাপ প্রকাশ

সবার জন্য নিরাপদ ও বাসযোগ্য সমাজ গড়তে বিএনপির সুস্পষ্ট পরিকল্পনা রয়েছে—এ কথা জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

শুক্রবার, ৬ ফেব্রুয়ারি বিকেলে রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।

বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, এবার বাংলাদেশ পুনর্গঠনের পালা। সবার জন্য নিরাপদ, মানবিক ও বাসযোগ্য সমাজ গড়তেই বিএনপির পরিকল্পনা রয়েছে। সে কারণেই তিনি বলেছিলেন—‘উই হ্যাভ আ প্ল্যান’।

তিনি জানান, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, বেগম খালেদা জিয়ার ভিশন ২০৩০ এবং স্বাক্ষরিত জুলাই সনদ বাস্তবায়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেবে বিএনপি। মহান আল্লাহর প্রতি পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস রেখে ইনসাফভিত্তিক, মানবিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে দলটি অঙ্গীকারবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সরকার গঠন করতে পারলে যেকোনো মূল্যে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা হবে জানিয়ে তারেক রহমান বলেন,
‘আমি ও আমার মা বিচার বিভাগের নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তাই আর যেন কেউ বিচার বিভাগের নির্যাতনের শিকার না হয়—এটাই আমাদের অঙ্গীকার। সরকারে গেলে বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হবে।’

নারী ও সামাজিক নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মা–বাবার ভরণপোষণ আইন কার্যকর করা হবে। নারীদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করতে পরিবারপ্রধান নারীর নামে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হবে। শিক্ষা ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ানো হবে।

অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তুলে ধরে বিএনপির চেয়ারম্যান বলেন, সরকারে গেলে মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গড়া হবে। ঋণনির্ভর অর্থনীতি থেকে বের হয়ে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করা হবে। ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি জানান, বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ জিডিপির ২.৫ শতাংশে উন্নীত, বেসরকারি খাতে নীতিগত সহায়তা, লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করা, ব্যাংক খাতে সুশাসন, মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সুদের হার যৌক্তিককরণ ও আস্থা ফেরাতে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পাশাপাশি পুঁজিবাজার সংস্কার কমিশন গঠন এবং শিল্পখাতে ওয়ান স্টপ সার্ভিস বাস্তবায়নের কথাও জানান তিনি।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২০৩০ সালের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ৩৫ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত এবং সঞ্চালন লাইন ২৫ হাজার সার্কিট কিলোমিটারে সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথা জানান তারেক রহমান।
বাংলাদেশকে এআই হাব ও হার্ডওয়্যার উৎপাদন কেন্দ্রে পরিণত করা, আইসিটি খাতে ১০ লাখ কর্মসংস্থান, যোগাযোগ ও পরিবহন খাতে জাতীয় এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড, সৃজনশীল অর্থনীতিতে জিডিপির ১.৫ শতাংশ অর্জন ও ৫ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির কথাও বলেন তিনি।

রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় কর–জিডিপি অনুপাত ১৫ শতাংশে উন্নীত, নিরাপদ ও টেকসই ঢাকার জন্য মনোরেল চালু, নারীদের নিরাপত্তায় নারীবান্ধব বাস, এবং ইলেকট্রিক ভেহিকাল সম্প্রসারণ করা হবে বলেও জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।

এছাড়া পাহাড় ও সমতলের নৃগোষ্ঠীর নিরাপত্তা ও অধিকার নিশ্চিত করতে নৃ-গোষ্ঠী উন্নয়ন অধিদফতর, এবং গণমাধ্যমকর্মীদের কল্যাণে জাতীয় সাংবাদিক অবসর কল্যাণ বোর্ড গঠনের প্রতিশ্রুতিও দেন তারেক রহমান।