ঢাকা, শুক্রবার, মার্চ ১৩, ২০২৬ | ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইরান ইস্যুতে জরুরি সমীকরণ! ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু, উত্তেজনা চরমে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

ইরান ইস্যুতে জরুরি সমীকরণ! ট্রাম্পের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে ওয়াশিংটনে যাচ্ছেন নেতানিয়াহু, উত্তেজনা চরমে

ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাড়তে থাকা আঞ্চলিক প্রভাব নিয়ে আলোচনা করতে চলতি সপ্তাহেই যুক্তরাষ্ট্র সফরে যাচ্ছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ওয়াশিংটনে গিয়ে তিনি সরাসরি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন।

ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনার ঠিক একদিন পর, শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে এই সফরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়।

ঘোষিত সূচি অনুযায়ী, আগামী মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা দেবেন নেতানিয়াহু। পরদিন বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সকালে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তার বহুল আলোচিত বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়, ইরানের সঙ্গে যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য চুক্তিতে তাদের ব্যালিস্টিক মিসাইল কর্মসূচির ওপর কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করা জরুরি বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে ইরান-সমর্থিত ছায়া গোষ্ঠী বা ‘প্রক্সি’দের সহায়তা বন্ধ করার বিষয়টিও আলোচনায় থাকা প্রয়োজন বলে তিনি জোর দেন।

ওমানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় ইরানের মিসাইল কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত না থাকার খবরে ইসরাইলের মধ্যে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে, নেতানিয়াহুর এই অবস্থান সেটিরই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।

গত এক বছরে ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে এটি হবে নেতানিয়াহুর সপ্তম যুক্তরাষ্ট্র সফর। সফর শেষে আগামী ১৩ ফেব্রুয়ারি সকালে তার ইসরাইলে ফেরার কথা রয়েছে। এই সফরে তার সঙ্গে যাচ্ছেন ইসরাইলি বিমান বাহিনীর হবু প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ওমের টিশলার—যা কূটনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে দেখা হচ্ছে।

এরই মধ্যে ওমানে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির সঙ্গে বৈঠকের একদিন পর ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং তার জামাতা জ্যারেড কুশনার আরব সাগরে অবস্থানরত মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন’ পরিদর্শন করেছেন।

উল্লেখ্য, গত জুনে ইসরাইল-ইরান যুদ্ধের পর এই প্রথমবারের মতো ওয়াশিংটন ও তেহরান সরাসরি বা পরোক্ষ আলোচনায় বসেছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের শুরুতেই ইরানের সঙ্গে দ্বিতীয় দফা আলোচনা হতে পারে। তার দাবি, একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহ দেখাচ্ছে তেহরান।

তবে ইসরাইলের স্পষ্ট অবস্থান হলো—পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণের পাশাপাশি ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ন্ত্রণে না আনলে কোনো চুক্তিই দীর্ঘমেয়াদে টিকবে না।