ঢাকা, শনিবার, জুন ৬, ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

ভারত-পাক মহারণ কি কলম্বোয়? ম্যাচ নিশ্চিত হতেই আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া, পকেটে টান ভক্তদের!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

ভারত-পাক মহারণ কি কলম্বোয়? ম্যাচ নিশ্চিত হতেই আকাশছোঁয়া বিমান ভাড়া, পকেটে টান ভক্তদের!

 মাঠের লড়াই শুরু হতে এখনো বাকি, কিন্তু মাঠের বাইরের উত্তেজনা এখনই তুঙ্গে! টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ হওয়া নিয়ে যে অনিশ্চয়তা ছিল, তা কেটে যেতেই যেন বিস্ফোরণ ঘটল কলম্বোগামী বিমানের টিকিটের বাজারে। প্রিয় দলের হাই-ভোল্টেজ লড়াই গ্যালারিতে বসে দেখতে ক্রিকেটপ্রেমীরা এখন মরিয়া, আর সেই সুযোগেই হু হু করে বাড়ছে ফ্লাইটের দাম।

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ হবে— এই ঘোষণা আসার কয়েক মিনিটের মধ্যেই মুম্বই থেকে কলম্বো রুটের রাউন্ড ট্রিপের ভাড়া আকাশ ছুঁয়েছে। এক ধাক্কায় এই ভাড়া পৌঁছে গেছে প্রায় ৬০ হাজার টাকায়! অথচ সাধারণ সময়ে এই রুটে যাওয়া-আসার খরচ এর অর্ধেকও থাকে না। ১৫ ফেব্রুয়ারির সেই বহুল প্রতীক্ষিত মহারণ ঘিরেই মূলত এই কাণ্ড।

ইন্ডিগো এয়ারলাইন্সের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ ফেব্রুয়ারি মুম্বই থেকে কলম্বো যাওয়ার একটি ইকোনমি ক্লাসের টিকিটের দামই ছাড়িয়েছে ৩০,৪১৮ টাকা। দিনের অন্যান্য ফ্লাইটের দাম ৩০ হাজার থেকে শুরু করে ৪৮ হাজার টাকা পর্যন্ত পৌঁছেছে। ফেরার টিকিটের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, সেখানেও গুনতে হচ্ছে ৩০ হাজার টাকার বেশি।

মজার ব্যাপার হলো, এপ্রিল মাসে যেখানে আসা-যাওয়ার টিকিট ১০ থেকে ১৬ হাজার টাকার মধ্যে পাওয়া যায়, সেখানে এখন শুধু যাওয়ার টিকিট পেতেই কালঘাম ছুটছে সাধারণ মানুষের। ১৩ ফেব্রুয়ারি বিকেলের দিকের সব সস্তা টিকিট ইতিমধ্যে বিক্রি হয়ে গেছে। যারা একটু দেরি করেছেন, তাদের এখন চড়া দাম দিয়েই টিকিট বুক করতে হচ্ছে।

আসলে এই ম্যাচটি না হলে আইসিসির প্রায় ১,৫৭৫ কোটি টাকার (১৭ কোটি ৪০ লক্ষ ডলার) বিশাল লোকসান হতো। আর আইসিসি লোকসানে পড়া মানেই বাংলাদেশসহ বাকি সদস্য দেশগুলোর আয়ের ভাগ কমে যাওয়া। শুরুতে পাকিস্তান ম্যাচ বয়কটের হুমকি দিলেও আইসিসি, বিসিবি এবং শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সাথে দফায় দফায় আলোচনার পর বরফ গলেছে।

পাকিস্তান সরকার সোমবার রাতে জানায়, ক্রিকেটের সংস্কৃতি রক্ষা এবং বন্ধু রাষ্ট্রগুলোর অনুরোধে তারা ভারতকে মোকাবিলা করতে রাজি হয়েছে। এর পেছনে বড় ভূমিকা ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)।

নাটকীয় মোড় আসে তখন, যখন আইসিসি ঘোষণা দেয় যে বাংলাদেশকে কোনো ধরনের আর্থিক বা প্রশাসনিক শাস্তি দেওয়া হবে না। উল্টো ২০৩১ সালের মধ্যে বাংলাদেশে একটি বড় আইসিসি টুর্নামেন্ট আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

সব মিলিয়ে মাঠের লড়াইয়ের আগেই মাঠের বাইরে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে যে পারদ চড়ল, তাতে পকেট হালকা হচ্ছে সাধারণ ক্রিকেট ভক্তদেরই।