ঢাকা, রবিবার, ফেব্রুয়ারী ১৫, ২০২৬ | ৩ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

মিমিকে আগলে রাখার দায়িত্ব আমার!’ জন্মদিনে বন্ধুকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট নুসরাতের, পড়লে চোখ ছলছল!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

মিমিকে আগলে রাখার দায়িত্ব আমার!’ জন্মদিনে বন্ধুকে নিয়ে আবেগঘন পোস্ট নুসরাতের, পড়লে চোখ ছলছল!

কখনও টমেটো ঘষা, কখনও ফুটপাতের প্যানকেক, কখনও লাস ভেগাসের দুষ্টুমি! জন্মদিনের সকালে বেস্টফ্রেন্ড মিমি চক্রবর্তীকে নিয়ে এমনই অকপট স্মৃতিচারণায় মন কাড়লেন নুসরাত জাহান। বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) টলিউড অভিনেত্রী মিমির জন্মদিন। আর এই বিশেষ দিনে বন্ধুকে নিয়ে খোলা চিঠি লিখে ফেললেন নুসরাত। সঙ্গে প্রকাশ্যে এল মিমি-নুসরাত বন্ধুত্বের অজানা সব গল্প।

পুরুষেরা প্রেমপত্র লেখেন, বন্ধুর জন্মদিনে আমি না হয় বন্ধুত্বের খোলা চিঠি লিখলাম—এই ভাবনা থেকেই লেখালেখির শুরু নুসরাতের। কিন্তু এ যেন শুধু চিঠি নয়, দুটি মন একে অপরকে দেওয়া ভালোবাসার স্বীকৃতি।

বন্ধুত্বের শুরুটা মনে করতে গিয়ে নুসরাত জানান, ‘যোদ্ধা’ সিনেমার শুটিংয়ের সময় এসভিএফ অফিসেই প্রথম দেখা। তখন তিনি আইটেম গানে ব্যস্ত, মিমি নিজের কাজে। কে জানত সেই পরিচয়ই একসময় দুজনের মধ্যে গড়ে দেবে আত্মার বন্ধন! মহড়ার পর মিমির রুমে কিংবা নুসরাতের ঘরে—সেখানেই তৈরি হয়েছিল বন্ধুত্বের ভিত।

শুধু আড্ডা নয়, মিমি যে কতটা মিষ্টি মানুষ, সেটাও জানিয়েছেন নুসরাত। বললেন, ঘুমোতে যাওয়ার আগে রোজ ক্যামোমিল টি খাওয়ার নির্দেশ ছিল মিমির। নিজে হাতে বানিয়ে খাওয়াত, আর সেই চায়ে ফুল ফুটলে মনে হতো, আমাদের বন্ধুত্বও ঠিক সেভাবেই পাপড়ি মেলেছে!

ব্যাংককের শুটিংয়ের মজার গল্পও শোনালেন নুসরাত। সারাদিন রোদে পুড়ে ত্বক ঝামা হওয়ার পর দুই বান্ধবী মিলে এত টমেটো কিনেছিলেন যে হোটেলে ফিরে একে অন্যের গায়ে টমেটো ঘষে সময় কাটিয়েছেন। আর লাস ভেগাস, লস অ্যাঞ্জেলেসের স্মৃতি তো আছেই। তবে সবচেয়ে মজার গল্প থাইল্যান্ডের ফুটপাতের প্যানকেক প্রেম। রাতে চুপিচুপি বেরিয়ে ‘ক্রেপস’ খেতে খেতে আড্ডা—এখনও প্যানকেক খেলেই নাকি নুসরাতকে মনে করেন মিমি।

তবে বন্ধুত্ব মানে শুধু সুখের গল্প নয়। ঝগড়াও কম করেননি দুজনে। টিমের সামনে চরম ঝগড়া, রাতে ফাটাফাটি রাগ, আবার পরদিন সকালে মিমির ভালো ছবি তুলে দেওয়ার দায়িত্ব নুসরাতেরই। নুসরাত বললেন, “মিমির রাগ হলেই ঝগড়া করে নেয়। সেই ছেলেমানুষ মিমিকে আমি দেখেছি। এখনকার মিমি অনেক পরিণত।”

প্রশ্ন থেকেই যায়, এত বন্ধুত্বের মাঝে দূরত্ব এল কেন? সেটা নিয়েও মুখ খুলেছেন নুসরাত। স্বীকার করেছেন, মাঝে দূরত্ব বেড়েছিল, অভিমান ছায়া ফেলেছিল। কিন্তু বন্ধুত্বের মৃত্যু ঘটেনি কখনও। এখন দুজনেই নিজেদের মতো করে সংসারী। নুসরাতের সন্তান আছে, মিমিও ব্যস্ত নিজের মতো। তাই আর আগের মতো ‘রইল ঝোলা চলল ভোলা’ করা হয় না। কিন্তু তাতে কি বন্ধুত্ব কমেছে? না, বরং বন্ধুত্ব আরও গভীর হয়েছে।

রাজনীতির প্রসঙ্গও এল চিঠিতে। কাকতালীয়ভাবে দুজনেই তৃণমূল কংগ্রেসের সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন। মিমিই প্রথম ফোন করে খবরটা দিয়েছিলেন নুসরাতকে। একসঙ্গে পার্লামেন্টে গেছেন, তবে কোনো দুষ্টুমি সেখানে করেননি। নুসরাতের ভাষায়, মিমির ভিতর আর বাহিরটা এক না। তাঁকে চিনতে হলে সময় দিতে হবে, বুঝতে হবে।

শেষটা এল আবেগঘন। জন্মদিনের শুভেচ্ছায় নুসরাত লিখলেন, আমি মিমির অনেক জন্মদিনের সাক্ষী। একসঙ্গে পার্টি করেছি, আর হইহুল্লোড় শেষে ঈশ্বরকে বলেছি, মিমি যেন একটুও না বদলায়। এক ইঞ্চি বদল চাই না ওর। যেমন আছে তেমনই থাকুক। সুখে থাকুক, শান্তিতে থাকুক।

আর শেষ লাইনে যে বাক্যটি লিখেছেন, সেটিই যেন হয়ে উঠল চিরকালের অঙ্গীকার—মিমিকে আগলে রাখার দায়িত্ব আমার। তুই নিশ্চিন্তে থাক। আজীবন তোর পাশে থাকবে তোর ‘বোনুয়া’।