এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৬:০২ পিএম

'৪৭ বছর ধরে কথা বলে যাচ্ছে ইরান, আমাদের অনেক প্রাণ গেছে'— হোয়াইট হাউসে অগ্নিগর্ভ ট্রাম্প, মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর নির্দেশ
ওয়াশিংটন থেকে বিশেষ প্রতিবেদন: ইরান ইস্যুতে আরেকটি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বসলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "ইরানের বর্তমান ধর্মীয় শাসনব্যবস্থায় পরিবর্তনই সবচেয়ে ভালো ঘটনা হবে।" এই মন্তব্যের মাধ্যমেই ইরানের প্রতি নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে দিলেন ট্রাম্প। তাঁর ভাষায়, তেহরানের ক্ষমতার পরিবর্তনই হবে 'সবচেয়ে ভালো ঘটনা'।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের সর্বোচ্চ নেতার অধীনে প্রতিষ্ঠিত শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের ব্যাপারে এটাই ট্রাম্পের সবচেয়ে স্পষ্ট এবং জোরালো সমর্থন। এই মন্তব্যের পর ইরানের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন শুরু হয়েছে।
'যোগ্য লোক আছে সেখানে, কথা বলে সময় নষ্ট নয়'
হোয়াইট হাউসের ওই আলাপকালে ট্রাম্প আরও বলেন, "৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথা বলেই যাচ্ছে। এদিকে আমরা অনেকগুলো প্রাণ হারিয়েছি।" ইরানের নতুন নেতৃত্ব কে নেবেন, সে বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও ট্রাম্প দাবি করেন, দায়িত্ব নেওয়ার মতো 'যোগ্য লোক সেখানে রয়েছে'।
তবে এই মন্তব্যের পরও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনীর পক্ষ থেকে এখনো কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, এই ইস্যুতে খুব শিগগিরই ইরানের পক্ষ থেকে কঠোর বিবৃতি আসতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় রণতরি, বার্তা স্পষ্ট
শুধু কথায় থেমে থাকেনি ট্রাম্প প্রশাসন। পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে চাপ বাড়ানোর অংশ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরি পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে পেন্টাগন। বিশ্বের অন্যতম বড় এবং আধুনিক মার্কিন বিমানবাহী রণতরি ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্দেশে রওনা হবে।
ট্রাম্প নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এই রণতরির একটি আকাশচিত্র শেয়ার করে লিখেছেন, "শিগগিরই দেখা হবে মধ্যপ্রাচ্যে।" ধারণা করা হচ্ছে, এটি ইতোমধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে থাকা আরেক মার্কিন রণতরি ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন-এর সঙ্গে যোগ দেবে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইরানে সরকারবিরোধী গণবিক্ষোভ দমনের পর প্রথমবার এই অঞ্চলে রণতরি পাঠায় পেন্টাগন। ওই দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে, যা ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর সর্বোচ্চ নেতার শাসনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
চুক্তি না হলে হামলা? ট্রাম্পের কৌশল কী
পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে ট্রাম্পের অবস্থান দ্বিধাবিভক্ত। যদিও তিনি বারবার হামলার হুমকি দিয়েছেন, তবুও বুধবার হোয়াইট হাউসে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি জোর দিয়ে বলেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া হবে।
শুক্রবার সন্ধ্যায় ফোর্ট ব্র্যাগ-এ ট্রাম্প বলেন, "ইরানের উচিত আমাদের এমন একটি চুক্তি দেওয়া, যা তাদের প্রথমবারই দেওয়া উচিত ছিল।" অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছে। নেতানিয়াহুর সরকার আরও কঠোর অবস্থানে। তারা বলেছে, তেহরানকে তাদের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বন্ধ করতে হবে এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো গোষ্ঠীগুলোর প্রতি সমর্থন প্রত্যাহার করতে হবে।
ইরানের জবাব: 'অন্যায্য দাবির কাছে নত হব না'
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করতে প্রস্তুত। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সতর্ক করে বলেছেন, "আমরা কারও অতিরিক্ত অন্যায্য দাবির কাছে মাথা নত করব না।"
প্রসঙ্গত, নিজের প্রথম মেয়াদে ট্রাম্প সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সময় করা ইরান পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এতে ইরানের অর্থনীতি বড় ধরনের চাপের মুখে পড়ে। গত বছর ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে একটি নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যেও ট্রাম্প প্রশাসন আলোচনা শুরু করেছিল। কিন্তু এখন আবার উত্তেজনা চরমে।