ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬ | ৪ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

বিএনপির জয়ে আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা, দেশে পরিবর্তনের আশা—শুরু হলো নতুন অধ্যায়?


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

বিএনপির জয়ে আন্তর্জাতিক শুভেচ্ছা, দেশে পরিবর্তনের আশা—শুরু হলো নতুন অধ্যায়?

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও তার দলকে অভিনন্দন জানিয়েছেন কমনওয়েলথ মহাসচিব শার্লি বোচওয়ে।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়ার প্রশংসা করেন। শার্লি বোচওয়ে বলেন, “শান্তিপূর্ণ নির্বাচনি প্রক্রিয়া এবং গণভোটে অবদান রাখা সব নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানকে আমি প্রশংসা করি। বাংলাদেশ ও এর গণতন্ত্রকে সমর্থন করার জন্য কমনওয়েলথের অঙ্গীকার পুনর্নিশ্চিত করছি।”

ফলাফলে এগিয়ে বিএনপি

সংসদ নির্বাচনে ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ২০৯টিতে জয় পেয়েছে। ফল ঘোষণা স্থগিত থাকা দুটি আসনেও তাদের প্রার্থীরা এগিয়ে। বিএনপির শরিকেরা পেয়েছে তিনটি আসন। অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পেয়েছে ৬৮টি আসন এবং জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের অন্য শরিকেরা পেয়েছে ৯টি আসন।

নির্বাচন কমিশন শনিবার গেজেট প্রকাশ করেছে। ৩০০ আসনের হিসাবে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জোট ২১২টিতে জয় পেয়েছে, আর জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছে ৭৭টি আসন।

‘আরও ভালো বাংলাদেশ’–এর প্রত্যাশা

নির্বাচনের পরদিন শুক্রবার বিকেলে গুলশানে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে দেখা যায় উচ্ছ্বাস। রিকশাচালক আনোয়ার পাগলা, যার রিকশায় ছিল জাতীয় পতাকা ও বিএনপির দলীয় পতাকা, বলেন, “লোকে আমাকে পাগল বলে। কিন্তু আমি মনে করি এই দলই আমার জীবনের সবকিছু। আমরা জিতেছি, বাংলাদেশ এখন আরও ভালো হবে।”

প্রায় দুই দশক পর ক্ষমতায় ফিরছে বিএনপি। আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসেবে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, “আপনারা যে ভালোবাসা দেখিয়েছেন, তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ।”

বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, নাগরিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তারেক রহমান।

শান্ত নির্বাচন, তবে অভিযোগও আছে

বৃহস্পতিবারের ভোট মোটাদাগে শান্তিপূর্ণ হয়েছে। যদিও ভোট গণনায় অসঙ্গতি ও কারচুপির অভিযোগ উঠেছে, শনিবার ফলাফল মেনে নিয়েছে জামায়াত।

গুলশানে দলের কর্মী কামাল হোসেন বলেন, “অনেক দিন মনে হয়েছিল, শেখ হাসিনা-র শাসন হয়তো শেষ হবে না। এবার মানুষ আমাদের সুযোগ দিয়েছে।”

তিনি মনে করেন, কর্মসংস্থান তৈরি ও মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণই নতুন সরকারের তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার হওয়া উচিত।

বিভাজন ও বিশ্লেষণ

রাজধানী শুক্রবার ছিল অস্বাভাবিক শান্ত। বিএনপি বিজয় মিছিল না করার সিদ্ধান্ত নেয়। অন্যদিকে জামায়াত কার্যালয়ের আশপাশে হতাশা প্রকাশ করেন কিছু সমর্থক।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক রেজাউল করিম রনি মনে করেন, এই জয় বাংলাদেশের রাজনীতিকে এক ধরনের ঝুঁকি থেকে মুক্ত করেছে। তবে তিনি সতর্ক করেন—ভালো শাসন, আইনশৃঙ্খলা ও অধিকারভিত্তিক রাষ্ট্র গড়াই হবে আসল পরীক্ষা।

আটলান্টিক কাউন্সিলের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক জ্যেষ্ঠ ফেলো মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, “নতুন সরকার যদি দমনমূলক রাজনীতিতে ফেরে, তাহলে সংস্কারবাদীরা হতাশ হবে।”

আঞ্চলিক দিক থেকেও এই ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ। পাকিস্তান ও চীন বিএনপির সঙ্গে সুসম্পর্ক রাখে বলে ধারণা করা হয়। তবে ভারত বিএনপিকে জামায়াতের চেয়ে বেশি পছন্দ করে—এমন মতও রয়েছে বিশ্লেষকদের।

সব মিলিয়ে, আন্তর্জাতিক অভিনন্দন আর দেশের ভেতরে পরিবর্তনের প্রত্যাশার মধ্য দিয়ে শুরু হচ্ছে নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়। এখন দেখার—প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন কত দ্রুত হয়।