ঢাকা, সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১৬, ২০২৬ | ৪ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইমরান খানের চোখের আলো নিভছে—পার্লামেন্টে বিরোধীদের লাগাতার অবস্থান! হাসপাতালে স্থানান্তর না হলে কী হবে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৫ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

ইমরান খানের চোখের আলো নিভছে—পার্লামেন্টে বিরোধীদের লাগাতার অবস্থান! হাসপাতালে স্থানান্তর না হলে কী হবে

ইসলামাবাদ: পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এখন চরমে। তার চিকিৎসার দাবিতে পার্লামেন্ট হাউসে বিরোধী দলগুলোর অবস্থান কর্মসূচি শনিবার টানা দ্বিতীয় দিনে গড়িয়েছে।

পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই) এবং তেহরিক-ই-তাহাফুজ-ই-আইন-ই-পাকিস্তান (টিটিএপি)-এর ব্যানারে বিরোধীরা ইসলামাবাদের পার্লামেন্ট হাউস এবং কেপি হাউসে অবস্থান নিয়ে আছেন। তাদের একমাত্র দাবি—ইমরান খানকে অবিলম্বে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে স্থানান্তর করা হোক।

গত বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টে জানানো হয়েছে, ইমরানের ডান চোখের দৃষ্টিশক্তি মাত্র ১৫ শতাংশ কার্যকর রয়েছে। এই খবর শোনার পরই পিটিআই ও টিটিএপির মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দেয় এবং তারা অবিলম্বে এই অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

শুক্রবার জুমার নামাজের পর শুরু হওয়া এই কর্মসূচি সারা রাত চলেছে। টিটিএপির চেয়ারম্যান মেহমুদ খান আচাকজাই এই অবস্থানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তার সঙ্গে রয়েছেন পিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর আলী খান, সিনেটর আলী জাফর, আসাদ কায়সার, জুনায়েদ আকবরসহ আরও অনেক নেতা।

পিটিআইয়ের সাধারণ সম্পাদক সালমান আকরাম রাজা এক্স-এ লিখেছেন, পার্লামেন্ট হাউস, পার্লামেন্ট লজ এবং কেপি হাউসকে এখন ‘কারাগারে পরিণত’ করা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, তাদের ‘মুক্ত করে দেওয়া’ হোক।

অন্যদিকে কেন্দ্রীয় তথ্যসচিব শেখ ওয়াকাস আকরাম বলেছেন, অবস্থান কর্মসূচি এখন দ্বিতীয় দিনে চলছে এবং বিরোধীরা পার্লামেন্ট হাউসের ভেতরে ‘অবরুদ্ধ’ অবস্থায় আছেন। তিনি অভিযোগ করেন, “আমরাও সারা রাত পার্লামেন্ট হাউসের ভেতরে ছিলাম। নেতারা ক্ষুধায় কাতর হয়ে পড়েছেন। পুলিশ রাতে খাবার এবং সকালে নাশতা নিতে দিচ্ছে না।”

এছাড়া আওয়ামি পাকিস্তান দল তাদের সব নেতাকে অবিলম্বে এই অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দলের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শীর্ষ নেতারা ইতিমধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে গেছেন।
ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে এই তীব্র বিরোধী অবস্থান পাকিস্তানের রাজনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করেছে। সবাই এখন অপেক্ষায়—দ্রুত হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত আসবে কি না।