ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৬ | ৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

রমজান-ঈদে স্বস্তি দিতে ইশরাকের ঝটিকা পরিকল্পনা— গ্যাস, বাজার, যানজটে বড় ঘোষণা আজ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২০ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

রমজান-ঈদে স্বস্তি দিতে ইশরাকের ঝটিকা পরিকল্পনা— গ্যাস, বাজার, যানজটে বড় ঘোষণা আজ

নগর ডেস্ক: নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেন নাগরিক ভোগান্তি কমাতে হাতে নিয়েছেন প্রাধান্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা। রমজান ও আসন্ন ঈদকে সামনে রেখে জনদুর্ভোগ লাঘব, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বাজার নিয়ন্ত্রণে ১০ দিনের বিশেষ কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে প্রতিমন্ত্রী এই রোডম্যাপ তুলে ধরেন। তাঁর ভাষায়, “দ্রুত ফল পেতে তাৎক্ষণিক উদ্যোগের বিকল্প নেই।”

প্রথম ১০ দিন: তাৎক্ষণিক কার্যক্রম
১. গ্যাস সংকট ব্যবস্থাপনা

রমজানে দ্রুত বাসাবাড়িতে গ্যাস সংযোগ সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

সংযোগজনিত সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানে তিতাস গ্যাস-এর প্রকৌশলীদের মাঠে নামানো হবে।

গ্যাস লোড বৃদ্ধির বিষয়ে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা হবে।

২. আইন ও শৃঙ্খলা

ঢাকা-৬ আসনের থানা কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমন্বয় সভা করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে।

নিরাপদ পাড়া-মহল্লা নিশ্চিতে টহল জোরদার ও পুলিশ ফাঁড়ি সচল রাখার নির্দেশ।

ছিনতাই, চুরি ও রাস্তার অপরাধ দমনে কঠোর ব্যবস্থা।

৩. মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান

চিহ্নিত মাদক স্পট বন্ধ করা হবে।

মাদক রুট নিষ্ক্রিয় করার উদ্যোগ।

গডফাদারদের আইনের আওতায় আনা হবে; বিদেশে থাকা মাদক ব্যবসায়ীদের ইন্টারপোল-এর সহায়তায় দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করার কথা বলা হয়েছে।

৪. নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ

স্থানীয় বাজারে গোপন ও কঠোর নজরদারি।

মজুতদারদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তল্লাশি।

ব্যবসায়ী সংগঠনকে সতর্কবার্তা।

আকস্মিক খুচরা ও পাইকারি বাজার পরিদর্শন এবং ডিএসসিসি ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যৌথ অভিযান।

৫. যানজট ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা

ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সভা।

ট্রাফিক আইন কঠোর প্রয়োগ।

গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে অতিরিক্ত ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ।

অবৈধ পার্কিং অপসারণ ও ফুটপাত দখলমুক্ত করা।

ঈদের আগে ও পরে: ধারাবাহিক কার্যক্রম (প্রাধান্য স্তর–২)

ওয়ার্ডভিত্তিক সড়ক পরিদর্শন ও প্রয়োজনীয় মেরামতের নির্দেশ।

অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ।

খোলা নর্দমা-ড্রেন স্ল্যাব দিয়ে ঢেকে দেওয়া।

আন্ডারগ্রাউন্ড ড্রেন ক্যামেরায় পরীক্ষা করে ব্লক অপসারণ।

সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলা বন্ধে ব্যবস্থা ও নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিতকরণ।

ডিএসসিসির বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়মিত তদারকি।

বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পর্যালোচনা ও প্রয়োজনীয় সংযোগ।

স্ট্রিট লাইটিং উন্নয়ন ও নষ্ট লাইট পরিবর্তন।

নিয়মিত সড়ক পরিষ্কার ও ধুলোপ্রবণ এলাকায় পানি ছিটানো—গবেষণাভিত্তিক সমীক্ষার মাধ্যমে।

সমন্বয় ও বাস্তবায়ন কাঠামো

এই কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে থানা পুলিশ, ডিএমপি ট্রাফিক বিভাগ, ভোক্তা অধিকার সংস্থা, ডিএসসিসির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগ, বাজার মনিটরিং ম্যাজিস্ট্রেট, ডিএসসিসির প্রকৌশল বিভাগ, ঢাকা ওয়াসা এবং তিতাস গ্যাসসহ সংশ্লিষ্ট সব সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয়ের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

রমজান-ঈদে স্বস্তি ফেরাতে ঘোষিত এই ১০ দিনের কর্মসূচি কতটা বাস্তবায়িত হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজধানীবাসী।