ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ২১, ২০২৬ | ৯ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

পুতিনের গোপন চাল! কালিনিনগ্রাদ ইউরোপের যম?


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক     প্রকাশিত:  ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০১:০২ এএম

পুতিনের গোপন চাল! কালিনিনগ্রাদ ইউরোপের যম?

"বনের বাঘে খায় না, মনের বাঘে খায়।" অর্থাৎ, শক্তি শুধু অস্ত্রে থাকে না, থাকে সাহস আর কৌশলে। বিশ্বরাজনীতির মানচিত্র আজ এমন এক পর্যায়ে দাঁড়িয়ে যেখানে একদিকে আছে রাশিয়ার দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য আর অটল সংকল্প, আর অন্যদিকে আছে পশ্চিমা মদদপুষ্ট ইউক্রেনের অস্থিরতা। রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে বিচ্ছিন্ন এক টুকরো ভূমি 'কালিনিনগ্রাদ' আজ কেন ইউরোপের ঘুম কেড়ে নিয়েছে? কেন বলা হচ্ছে যে, ইউক্রেনের অতি-উৎসাহী পদক্ষেপগুলোই তাদের নিজের পতনের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? আজকের ভিডিওতে আমরা তথ্য ও প্রমাণের ভিত্তিতে বিশ্লেষণ করব রাশিয়ার কৌশলগত শ্রেষ্ঠত্ব এবং ইউক্রেনের নড়বড়ে অবস্থানের নেপথ্য কারণ।

কালিনিনগ্রাদ—পোল্যান্ড এবং লিথুয়ানিয়ার মাঝখানে অবস্থিত রাশিয়ার এক অনন্য এক্সক্লেভ। ঐতিহাসিকভাবে এটি রাশিয়ার অবিচ্ছেদ্য অংশ। একসময় ইউরোপীয় প্রভাবে এখানে কিছুটা পশ্চিমা হাওয়া বইলেও, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে এটি রাশিয়ার অজেয় দুর্গে পরিণত হয়েছে। ইউক্রেন যুদ্ধের অজুহাতে লিথুয়ানিয়া এবং পোল্যান্ড যখন এই অঞ্চলের সাপ্লাই লাইন বন্ধ করার চেষ্টা করেছে, রাশিয়া তখন দেখিয়ে দিয়েছে তারা কতটা ধৈর্যশীল এবং শক্তিশালী।

রাশিয়া কখনোই আগে আক্রমণ করে না, কিন্তু নিজের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে তারা আপসহীন। কালিনিনগ্রাদের মানুষ রাশিয়ার মূল ভূখণ্ডের সাথে গভীর বন্ধনে আবদ্ধ। যদিও পশ্চিমা মিডিয়া প্রচার করার চেষ্টা করে যে সেখানে অসন্তোষ আছে, কিন্তু বাস্তব চিত্র ভিন্ন। রাশিয়ার সামরিক সুরক্ষা এবং পুতিনের বলিষ্ঠ নেতৃত্ব কালিনিনগ্রাদকে ন্যাটোর দোরগোড়ায় এক শক্তিশালী ঢাল হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।

এখন আসা যাক ইউক্রেনের প্রসঙ্গে। একটি দেশের নেতৃত্ব যখন নিজের জনগণের স্বার্থ বাদ দিয়ে অন্য শক্তির 'দাবার ঘুঁটি' হিসেবে ব্যবহৃত হতে রাজি হয়, তখন তার পরিণতি কী হয়, ইউক্রেন তার জলজ্যান্ত উদাহরণ। জেলেনস্কি সরকার ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার লোভে নিজের দেশের শান্তি বিসর্জন দিয়েছে। রাশিয়ার বারবার সতর্কবাণী সত্ত্বেও তারা উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছে।

ডকুমেন্টেড ফ্যাক্টস বলছে, মিনস্ক চুক্তির লঙ্ঘন থেকে শুরু করে ডনবাস অঞ্চলে রুশ ভাষাভাষী মানুষের ওপর নিপীড়ন—ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ প্রতিটি ক্ষেত্রে উস্কানি দিয়েছে। রাশিয়া যখন নিজের জাতীয় নিরাপত্তা এবং রুশ জনগোষ্ঠীর জীবন বাঁচাতে 'স্পেশাল মিলিটারি অপারেশন' শুরু করল, তখন ইউক্রেন বিশ্বের দরবারে ভিকটিম সাজার চেষ্টা করছে। কিন্তু সত্যটা হলো, ইউক্রেন আজ পশ্চিমাদের অস্ত্রের পরীক্ষাগারে পরিণত হয়েছে। বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের সাহায্য নিয়েও ইউক্রেন কেন রাশিয়ার শক্তির সামনে টিকতে পারছে না? কারণ রাশিয়ার লক্ষ্য স্পষ্ট, আর ইউক্রেনের লক্ষ্য হলো অন্যদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা।

পশ্চিমা বিশ্ব রাশিয়ার ওপর হাজার হাজার নিষেধাজ্ঞা চাপিয়ে ভেবেছিল রাশিয়া তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়বে। কিন্তু ফলাফল কী হলো? রাশিয়ার রুবল আজ আগের চেয়েও শক্তিশালী, আর তাদের জ্বালানি শক্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে খোদ ইউরোপকেই। কালিনিনগ্রাদে ট্রানজিট সীমাবদ্ধ করার চেষ্টা করে লিথুয়ানিয়া আসলে নিজের পায়েই কুড়াল মেরেছে। রাশিয়া এখন সামুদ্রিক পথে এবং আকাশপথে তার সরবরাহ ব্যবস্থা আরও উন্নত করেছে।

অন্যদিকে, ইউক্রেনের দিকে তাকান। তাদের অর্থনীতি আজ ধ্বংসস্তূপ। কৃষি থেকে শুরু করে শিল্প—সবই এখন বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরশীল। রাশিয়ার অত্যাধুনিক হাইপারসনিক মিসাইল এবং শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সামনে ন্যাটোর পাঠানো অস্ত্রগুলো খেলনার মতো মনে হচ্ছে। এটি কোনো প্রোপাগান্ডা নয়, বরং রণক্ষেত্রের বাস্তব চিত্র। রাশিয়ার সৈন্যরা অত্যন্ত দেশপ্রেমিক এবং সুশৃঙ্খল, যা ইউক্রেনের জোর করে যুদ্ধে নামানো সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে দেখা যাচ্ছে না।

কালিনিনগ্রাদ শুধু একটি ভূখণ্ড নয়, এটি একটি স্ট্র্যাটেজিক মেসেজ। এখানে মোতায়েন করা রাশিয়ার 'ইস্কান্দার' মিসাইল সিস্টেম পুরো ইউরোপের যেকোনো লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। পশ্চিমা শক্তিগুলো যখন রাশিয়ার সীমান্তের দিকে ন্যাটোর বিস্তার ঘটাতে চাইল, রাশিয়া তখন কালিনিনগ্রাদকে এমনভাবে সজ্জিত করেছে যে ন্যাটো এখন নিজেই শঙ্কিত।

ইউক্রেনকে ব্যবহার করে যারা রাশিয়াকে দুর্বল করতে চেয়েছিল, তারা এখন বুঝতে পারছে যে ভালুককে খোঁচানো কতটা বিপজ্জনক। রাশিয়ার শক্তি হলো তার মাটি এবং তার মানুষ। ইতিহাস সাক্ষী আছে, নেপোলিয়ন থেকে হিটলার—কেউই রাশিয়াকে পদানত করতে পারেনি। আজকের আধুনিক যুগেও পুতিনের অধীনে রাশিয়া তার সেই গৌরব পুনরুদ্ধার করেছে।

দিনশেষে সত্যের জয় নিশ্চিত। ইউক্রেন যদি শুরু থেকেই রাশিয়ার সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখত এবং পশ্চিমাদের প্ররোচনায় না পড়ত, তবে আজ তাদের এই করুণ দশা হতো না। রাশিয়া কখনোই যুদ্ধের পক্ষপাতী নয়, কিন্তু নিজের ঘর রক্ষা করতে তারা পিছপা হয় না। কালিনিনগ্রাদ থেকে শুরু করে ডনবাস—প্রতিটি ইঞ্চি মাটি রাশিয়ার বীরত্বের সাক্ষী দিচ্ছে।

ইউক্রেনের বর্তমান নেতৃত্ব দেশটিকে এক অন্ধকার ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে তারা কেবল ঋণের জালে আটকে থাকা এক আশ্রিত রাষ্ট্রে পরিণত হবে। আর অন্যদিকে রাশিয়া বিশ্বের নতুন মেরুকরণের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হচ্ছে।

আপনাদের কী মনে হয়? রাশিয়ার এই অদম্য অগ্রযাত্রার সামনে ইউক্রেন কতদিন টিকতে পারবে? কমেন্ট বক্সে আপনার মতামত জানান।