ঢাকা, শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬ | ৭ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

বিমানবন্দরে মদকাণ্ড? সব অভিযোগ উড়িয়ে আইনি লড়াইয়ে নামলেন মেহজাবীন চৌধুরী আজ


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৪:০২ পিএম

বিমানবন্দরে মদকাণ্ড? সব অভিযোগ উড়িয়ে আইনি লড়াইয়ে নামলেন মেহজাবীন চৌধুরী আজ

শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ১৪ বোতল বিদেশি মদসহ আটকের খবর—সবটাই ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করলেন জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। এতদিন ঘুরিয়ে কথা বললেও এবার সরাসরি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি। একই সঙ্গে এই ‘মানহানিকর’ প্রচারণার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার কথাও জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টা ৫৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে কড়া ভাষায় প্রতিক্রিয়া জানান এই তারকা।

“আমাকে থামানোই হয়নি”

ফেসবুক পোস্টে মেহজাবীন স্পষ্ট করে লেখেন, তাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি, জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি।

তার ভাষায়, “উল্লিখিত কোনো ঘটনায় আমাকে কখনোই বিমানবন্দরে থামানো হয়নি। আমার কোনো হ্যান্ডব্যাগ বা লাগেজও আটকানো হয়নি; আমার লাগেজ বা হ্যান্ডব্যাগে উল্লিখিত অভিযোগের কিছু পাওয়ার তো প্রশ্নই ওঠে না। যেসব কথা ছড়ানো হচ্ছে, সেরকম কোনো ঘটনার মুখোমুখি আমি হইনি। বিমানবন্দরের কোনো কর্মকর্তা আমাকে কোনোরূপ জিজ্ঞাসাবাদও করেননি।”

খবরটিকে তিনি ‘ক্লিকবেইট’ আখ্যা দিয়ে প্রশ্ন তোলেন—“আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করার বা আমার লাগেজ থেকে অবৈধ কিছু বের হওয়ার কোনো ছবি, ভিডিও বা প্রমাণ কি আছে?”

মানহানির অভিযোগ, আইনি পদক্ষেপ

মেহজাবীন আরও লেখেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে মানহানি এখন খুব স্বাভাবিক ব্যাপারে পরিণত হয়েছে। যে খবরটি ছড়ানো হয়েছে, তার নিরিখে একটিও প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। অথচ ক্লিকবেইটের জন্য আমার ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।”

তিনি জানান, সাম্প্রতিক এই মানহানিকর প্রচারণার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

কী ছিল অভিযোগ?

গত শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) একটি সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশ হয় যে, গত ১৭ আগস্ট ব্যাংকক থেকে ফেরার পথে মেহজাবীন, তার স্বামী আদনান আল রাজীব এবং নির্মাতা শঙ্খ দাসগুপ্তের লাগেজ থেকে ১৪ বোতল মদ উদ্ধার করে কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। তবে ‘রহস্যজনক’ কারণে তাদের মুচলেকা ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়।

পরে গুঞ্জন ছড়ায়, অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ও তার স্ত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা–র ফোনের প্রভাবে কাস্টমসের জাল থেকে মুক্তি পান এই অভিনেত্রী। এমনকি একটি আড্ডায় তিশা নাকি বিষয়টি স্বীকারও করেছিলেন—এমন দাবিও উঠে আসে।

ধোঁয়াশা কাটালেন মেহজাবীন

গত ২২ ফেব্রুয়ারি এক পোস্টে নিজেকে ‘টার্গেট’ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন মেহজাবীন। তবে তখন মদের বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার না করায় জনমনে প্রশ্ন থেকে যায়।

অবশেষে মঙ্গলবারের পোস্টে সেই ধোঁয়াশা দূর করে সরাসরি সব অভিযোগ উড়িয়ে দিলেন তিনি।

এখন দেখার বিষয়, আইনি পদক্ষেপের পর এই বিতর্ক কোন দিকে মোড় নেয়।