ঢাকা, রবিবার, এপ্রিল ৫, ২০২৬ | ২২ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

হামাসকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি! অস্ত্র না ছাড়লে গাজা পুরো দখল করবে ইসরায়েল—পেছনে আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন, কী ভয়াবহ পরিকল্পনা!


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

হামাসকে চূড়ান্ত হুঁশিয়ারি! অস্ত্র না ছাড়লে গাজা পুরো দখল করবে ইসরায়েল—পেছনে আমেরিকার পূর্ণ সমর্থন, কী ভয়াবহ পরিকল্পনা!

ইসরায়েলের কট্টরপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ হামাসকে সরাসরি চূড়ান্ত আলটিমেটাম দিয়ে বলেছেন, অস্ত্র সমর্পণ না করলে পুরো গাজা দখল করে নেবে ইসরায়েলি বাহিনী। এর পেছনে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন এবং আন্তর্জাতিক বৈধতা। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম কান-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এই কড়া হুঁশিয়ারি দেন।
এর আগে গত সপ্তাহে ইসরায়েল ঘোষণা করেছিল, হামাসকে ৬০ দিনের মধ্যে সব অস্ত্র জমা দিতে হবে—এমনকি একে-৪৭ রাইফেল পর্যন্ত। 

ইসরায়েলের মন্ত্রিপরিষদ সচিব ইয়োসি ফুচস জেরুজালেমে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এই সময়সীমা নির্ধারণে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন অনুরোধ করেছিল। হামাস যদি অস্ত্র না ছাড়ে, তাহলে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী (আইডিএফ) নতুন করে সামরিক অভিযান শুরু করবে বলে হুমকি দেন তিনি।
কিন্তু হামাস এই দাবি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে। সংগঠনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মাহমুদ মারদাবি বলেন, “নেতানিয়াহু এবং গণমাধ্যমের মাধ্যমে দেওয়া এসব বক্তব্য শুধু হুমকি। চলমান আলোচনায় এর কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।”

এরপরই আবারও কড়া হুঁশিয়ারি দেন স্মোট্রিচ। তিনি বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই হামাসকে গাজা পুরোপুরি নিরস্ত্র করার চূড়ান্ত আলটিমেটাম দেওয়া হতে পারে। হামাস যদি তা না মানে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সহযোগিতা এবং আন্তর্জাতিক সমর্থন নিয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেরাই ব্যবস্থা নেবে।

স্মোট্রিচ আরও জানান, হামাস নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হলে ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় ঢুকে পুরো এলাকা দখল করবে। এই অভিযান কীভাবে চালানো হবে, সে বিষয়ে দুই-তিনটি পরিকল্পনা ইতিমধ্যে বিবেচনায় রয়েছে।
এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত শান্তি পরিকল্পনায় গাজায় ২০ হাজার সদস্যের একটি আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষা বাহিনী গঠনের কথা বলা হয়েছে। কয়েকটি দেশ এই বাহিনীতে সেনা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে।

তবে স্মোট্রিচ দাবি করেন, বিদেশি সেনারা থাকলেও ইসরায়েলি বাহিনী অভিযান চালাতে চাইলে তারা দ্রুত সরে যাবে। এসব বিষয় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বয় করেই করা হচ্ছে। তবে আপাতত এই আন্তর্জাতিক বাহিনী দ্রুত গাজায় মোতায়েন হবে বলে মনে হচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
গাজা ইস্যুতে এই নতুন উত্তেজনা সাধারণ মানুষের মনে বড় প্রশ্ন তুলেছে—আর কতদিন চলবে এই সংঘাত? শান্তি কি সত্যিই সম্ভব, নাকি আরও বড় যুদ্ধের দিকে এগোচ্ছে পরিস্থিতি?