এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত সন্ধ্যার ম্যাচগুলোতে শিশির খুব একটা সমস্যা তৈরি করেনি। তবে এ সপ্তাহে চেন্নাইয়ের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) সুপার-আটের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে India national cricket team মুখোমুখি হবে Zimbabwe national cricket team-এর। সুপার এইটের প্রথম ম্যাচে হারায় এটি ভারতের জন্য একপ্রকার ‘মাস্ট-উইন’ লড়াই।
‘ডিউ কিউর’— যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ কেমিক্যাল
‘দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস’-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তামিলনাড়ু ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন আগেভাগেই শিশির ঠেকাতে ব্যবস্থা নিয়েছে। টুর্নামেন্টের আগে চিপকের আউটফিল্ড নতুন করে বসানোর সময় যুক্তরাষ্ট্র থেকে ‘ডিউ কিউর’ নামে একটি বিশেষ রাসায়নিক আমদানি করা হয়। মেজর লিগ বেসবলের মাঠেও এটি ব্যবহার হয় বলে জানা গেছে।
এই আন্তর্জাতিক মানের কেমিক্যাল মূলত ঘাসের উপর আর্দ্রতা জমতে দেয় না এবং মাঠ দ্রুত শুকনো রাখতে সাহায্য করে। ফলে সন্ধ্যার ম্যাচে বল ভেজার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়— যা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে বড় ফ্যাক্টর হতে পারে।
দুই দিন ধরে স্প্রে, ম্যাচের দিনও একই প্রস্তুতি
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে গ্রাউন্ডস্টাফ টানা দু’দিন ধরে নির্দিষ্ট অনুপাতে জলের সঙ্গে মিশিয়ে আউটফিল্ডে স্প্রে করেছে ‘ডিউ কিউর’। যাতে ঘাসের কোনও ক্ষতি না হয়, সে দিকেও রাখা হয়েছে বিশেষ নজর। বৃহস্পতিবার বিকেলেও একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হবে বলে জানা গেছে।
সূত্রের দাবি, একবার এই কেমিক্যাল স্প্রে করলে ঘাসের পাতায় আর্দ্রতা জমতে পারে না। ভিজলেও তা দ্রুত শুষে নেয় এবং মাঠ শুকনো থাকে। মাঠকর্মীদের মতে, এতে ফিল্ডিংয়ের সময় বল হাত থেকে পিছলে যাওয়ার সম্ভাবনা কমবে। বোলারদের গ্রিপ নিয়েও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। বিশেষ করে রান তাড়া করার সময় শিশির বড় ভূমিকা নেয়— সেই ঝুঁকি কমাতেই এই বাড়তি উদ্যোগ।
অনুশীলনে সন্তুষ্ট টিম ম্যানেজমেন্ট
ভারতীয় দল মঙ্গলবার ও বুধবার চিপকে অনুশীলন করেছে। শুধু ব্যাটিং-বোলিং নয়, মাঠের পরিস্থিতিও খতিয়ে দেখেছে টিম ম্যানেজমেন্ট। রিপোর্ট অনুযায়ী, শিশিরমুক্ত পরিবেশে তারা সন্তুষ্ট। সন্ধ্যার দিকে বল ভেজার সমস্যা না থাকায় বোলাররা পরিকল্পনা মতো বল করতে পেরেছেন, আর ব্যাটাররাও স্বস্তিতে শট খেলেছেন।
এমন পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে দলকে বাড়তি আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
ভবিষ্যতে সেমিফাইনাল, ফাইনালেও ব্যবহার?
বোর্ড ভবিষ্যতে সেমিফাইনাল ও ফাইনালেও এই পদ্ধতি ব্যবহার করতে পারে বলে জানা গেছে, যদিও এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হয়নি। বড় ম্যাচে শিশিরের প্রভাব যাতে ফলাফলে না পড়ে, সেটাই লক্ষ্য।
এমনকি ২০২৬ সালের Indian Premier League-এও এটি প্রয়োগ করা হতে পারে বলে আলোচনা রয়েছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে টি-টোয়েন্টি ম্যাচে শিশিরের প্রভাব বারবার দেখা গেছে, বিশেষ করে রান তাড়ার সময় বোলারদের সমস্যায় পড়তে হয়েছে।
চিপক এবার ব্যাটিং স্বর্গ!
চিপক সাধারণত স্পিনারদের সহায়ক উইকেট হিসেবে পরিচিত। কিন্তু চলতি টুর্নামেন্টে চিত্রটা একেবারে আলাদা। ধীরগতির উইকেট ও টার্নের জন্য বিখ্যাত এই মাঠ এখন ব্যাটিং স্বর্গে পরিণত হয়েছে।
বল ব্যাটে ভালোভাবে আসছে, বাউন্সও তুলনামূলক সমান। পেসাররা তেমন সুবিধা পাচ্ছেন না, উইকেট তুলতে বাড়তি পরিশ্রম করতে হচ্ছে। স্পিনাররাও আগের মতো অতটা টার্ন পাচ্ছেন না।
সেমিফাইনালের টিকিট সামনে রেখে ভারত কোন কম্বিনেশন বেছে নেয়— অতিরিক্ত পেসার, বাড়তি স্পিনার নাকি গভীর ব্যাটিং লাইনআপ— সেটাই এখন দেখার বিষয়। বাঁচা-মরার ম্যাচে শেষ হাসি কে হাসবে, তার বড় উত্তর লুকিয়ে থাকতে পারে এই ‘আমেরিকান’ কৌশলের সাফল্যে।