এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৫:০২ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য আগ্রাসনের হুমকির মধ্যেও শক্ত অবস্থান নিয়েছে ইরান। পারস্য উপসাগরে থাকা ট্যাংকারগুলোতে স্বাভাবিকের প্রায় তিন গুণ বেশি তেল তুলছে তেহরান। এতে স্পষ্ট বার্তা—চাপ দিয়ে ইরানকে থামানো যাবে না। বরং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত ইসলামি প্রজাতন্ত্র। বুধবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বাজার বিশ্লেষণী সংস্থা কেপলারের তথ্য অনুযায়ী ১৫ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে খার্গ দ্বীপ থেকে ইরানের তেল রপ্তানি প্রায় ২ কোটি ১ লাখ ব্যারেলে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, প্রতিদিন গড়ে ৩০ লাখ ব্যারেলের বেশি। জানুয়ারির একই সময়ের তুলনায় এটি প্রায় তিন গুণ বেশি।
তুলনায় দেখা গেছে, আগের তিন মাসে প্রতিদিন গড়ে ১৫ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল লোড হতো। খার্গ দ্বীপে রয়েছে ইরানের সবচেয়ে বড় তেল টার্মিনাল, যেখান থেকে দেশটির প্রায় ৯০ শতাংশ তেল রপ্তানি হয়।
২০২৫ সালের জুনে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যখন ইরানের ওপর হামলার প্রস্তুতি নেয়, তখনও একইভাবে দ্রুত তেল জাহাজে তুলে বিশ্ববাজারে পাঠিয়েছিল তেহরান—যা ছিল তাদের দূরদর্শী কৌশলের অংশ। খার্গ দ্বীপ হামলার ঝুঁকিতে থাকলেও ইরানের ‘শ্যাডো ফ্লিট’ বা ছায়া নৌবহর ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকায় সেগুলোকে সহজে লক্ষ্যবস্তু করা কঠিন। ফলে চাপের মধ্যেও তেল রপ্তানি চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে দেশটি।
তবে শুধু ইরান নয়, মধ্যপ্রাচ্যের আরেক তেল উৎপাদক সৌদি আরব-ও উৎপাদন বাড়িয়েছে। বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে হামলা চালায় এবং সরবরাহ ব্যাহত হয়, সেই সুযোগ মাথায় রেখেই বিকল্প পরিকল্পনা হিসেবে উৎপাদন বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। ২০২৫ সালের জুনে ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার সময়ও একইভাবে প্রতিদিন প্রায় ৫ লাখ ব্যারেল রপ্তানি বাড়িয়েছিল তারা।
সমুদ্রে বেশি তেল পাঠানোর আরেকটি বড় ইঙ্গিত হলো জাহাজ ভাড়ার খরচ হঠাৎ বেড়ে যাওয়া। ভেরি লার্জ ক্রুড ক্যারিয়ার (ভিএলসিসি) ভাড়া এখন প্রতিদিন ১ লাখ ৭০ হাজার ডলারের বেশি—যা বছরের শুরু থেকে তিন গুণ বেড়েছে। আর্থিক তথ্য সংস্থা এলএসইজির তথ্য উদ্ধৃত করে এই খবর জানিয়েছে রয়টার্স।
জাহাজের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় বুকিং বাড়লেই ভাড়া বেড়ে যায়। এদিকে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দামও গত এক মাসে বেড়েছে। উত্তেজনার কারণে বুধবার প্রতি ব্যারেল ৭০ দশমিক ৮৪ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা আগের তুলনায় দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।