এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০৩:০২ পিএম

১৩ বছর বয়সে উন্নত চিকিৎসা ও উজ্জ্বল ভবিষ্যতের আশায় পরিবারসহ স্পেনে পাড়ি জমান লিওনেল মেসি। এফসি বার্সেলোনা-র যুব দলে খেলতে খেলতেই তার জাদুকরী প্রতিভা নজর কাড়ে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের। সেখান থেকেই আসে বড় প্রস্তাব—স্পেনের বয়সভিত্তিক দলে খেলার সুযোগ।
সম্প্রতি ‘মিরো দে আত্রাস’ পডকাস্টে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মেসি নিজেই শুনিয়েছেন সেই আবেগঘন গল্প। তিনি জানান, বার্সেলোনায় খেলছিলেন বলেই স্পেনের হয়ে খেলার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল তাকে। তরুণ প্রতিভাদের ক্ষেত্রে এমন প্রস্তাব নতুন কিছু নয়—তাই বিষয়টি স্বাভাবিকভাবেই এসেছিল তার সামনে।
তবে মনে-প্রাণে আর্জেন্টাইন মেসি তখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। সেই দ্বিধার কারণেই ২০০৩ সালের অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে অংশ নিতে পারেননি তিনি।
সেই বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ম্যাচটিতে মেসির তৎকালীন সতীর্থ সেস ফ্যাব্রেগাস জোড়া গোল করে আর্জেন্টিনাকে ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দেন।
স্মৃতিচারণ করে মেসি বলেন, “ফ্যাব্রেগাস তখন আর্সেনাল এফসি-তে খেলছিল এবং আমাদের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিল। এরপর সবাই আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করতে শুরু করে, কেন আমি স্পেনের হয়ে খেলছি না।”
স্পেনের হয়ে খেললে সাফল্যের সম্ভাবনা হয়তো বেশি ছিল। তবুও মেসির লক্ষ্য ছিল একদম পরিষ্কার। বার্সেলোনার হয়ে প্রায় সব বয়সভিত্তিক স্তরে খেললেও তার হৃদয়ে ছিল জন্মভূমি আর্জেন্টিনা।
তিনি বলেন, “সুযোগটা ছিল এবং সেটা হতেও পারত। কিন্তু আমার সবসময়ের আকাঙ্ক্ষা ছিল আর্জেন্টিনার হয়ে খেলার।”
অবশেষে ২০০৪ সালে আর্জেন্টিনা অনূর্ধ্ব-২০ জাতীয় ফুটবল দল-এর হয়ে অভিষেক ঘটে মেসির। এরপর ২০০৫ সালের যুব বিশ্বকাপ জয় এবং ২০০৮ সালের অলিম্পিক সোনা—সাফল্যের পথচলা শুরু হয় সেখান থেকেই।
একটি সিদ্ধান্তই বদলে দিয়েছে ইতিহাস। স্পেনের প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে নিজের দেশকেই বেছে নিয়েছিলেন মেসি—আর সেই সিদ্ধান্তই আজ তাকে কিংবদন্তির আসনে বসিয়েছে।