ঢাকা, মঙ্গলবার, এপ্রিল ৭, ২০২৬ | ২৪ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

সাঁতারের ছবি থেকে ইমেইল ফাঁস—এপস্টেইন কাণ্ডে ফের আলোচনায় ক্লিনটন ও গিলেইন


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ২৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬, ০২:৫০ পিএম

সাঁতারের ছবি থেকে ইমেইল ফাঁস—এপস্টেইন কাণ্ডে ফের আলোচনায় ক্লিনটন ও গিলেইন

রাতের অন্ধকারে সুইমিং পুলে সাঁতার, কনসার্টের ব্যাকস্টেজে হাস্যোজ্জ্বল ছবি, আর ইমেইলের খুনসুটি—সব মিলিয়ে নতুন করে বিতর্কে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন।

মার্কিন বিচার বিভাগ প্রকাশিত ইমেইল ও আলোকচিত্রের নথিতে উঠে এসেছে, কীভাবে ব্রিটিশ সমাজসেবী থেকে পরে যৌন পাচারের দায়ে দণ্ডিত গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ক্লিনটনকে কুখ্যাত অর্থলগ্নিকারী জেফরি এপস্টেইন-এর ঘনিষ্ঠ পরিমণ্ডলে নিয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছিলেন।

রাতের সাঁতার, কনসার্টের ব্যাকস্টেজ—ভাইরাল ছবি

প্রকাশিত ছবিগুলোর একটিতে রাতের অন্ধকারে ক্লিনটনকে গিলেইন ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে সাঁতার কাটতে দেখা যায়। আরেক ছবিতে হংকংয়ে রোলিং স্টোনসের এক কনসার্টের পেছনের মঞ্চে ক্লিনটনের পাশে দাঁড়িয়ে আছেন এপস্টেইন।

একটি দিন-তারিখহীন ছবিতে ক্লিনটনকে হট টাবে বসে থাকতে দেখা যায়, যেখানে পাশে থাকা একজনের মুখ কালো করে ঢেকে দেওয়া হয়েছে। এসব ছবি প্রকাশের পর প্রশ্ন উঠেছে—ক্লিনটনের সঙ্গে এপস্টেইনের সম্পর্ক কতটা গভীর ছিল?

তবে নথিতে ক্লিনটনের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। এপস্টেইনের ভুক্তভোগীদের কেউই এখন পর্যন্ত তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেননি। ক্লিনটনের অফিস দাবি করেছে, এপস্টেইনের অপরাধ সম্পর্কে তিনি কিছুই জানতেন না এবং বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার আগেই সম্পর্ক ছিন্ন করেছিলেন।

মানবকল্যাণ থেকে বিতর্কে

২০০০-এর দশকের শুরুতে হোয়াইট হাউস ছাড়ার পর ক্লিনটন বৈশ্বিক মানবকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে যুক্ত করেন। তাঁর ক্লিনটন ফাউন্ডেশন এবং পরবর্তীতে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ-এর জন্য তিনি ধনী দাতাদের খুঁজছিলেন।

সে সময় এপস্টেইন ছিলেন ধনাঢ্য ব্যবসায়ী, যিনি ব্যক্তিগত জেট নিয়ে বিশ্বজুড়ে প্রভাবশালী মহলে চলাফেরা করতেন। আর গিলেইন ম্যাক্সওয়েল ছিলেন তাঁর ঘনিষ্ঠ সঙ্গী ও সামাজিক যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ সেতু।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি-র পর্যালোচনা করা ইমেইলগুলোতে ক্লিনটন ও এপস্টেইনের সরাসরি বার্তা না থাকলেও ম্যাক্সওয়েল ও ক্লিনটনের ঘনিষ্ঠ সহকারী ডগ ব্যান্ড-এর মধ্যে বিস্তর যোগাযোগের প্রমাণ মিলেছে। ২০০২ থেকে ২০০৪ সালের ইমেইলে তাঁদের সম্পর্ক ছিল বেশ ঘনিষ্ঠ ও খুনসুটিপূর্ণ। গিলেইনকে ‘সোশ্যাল ম্যাচমেকার’ বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।

২৪ বার ব্যক্তিগত জেটে ভ্রমণ

ফ্লাইট লগ অনুযায়ী, ক্লিনটন অন্তত ২৪ বার এপস্টেইনের ব্যক্তিগত বিমানে ভ্রমণ করেছেন। আফ্রিকা, ইউরোপ, এশিয়া ও রাশিয়াসহ বিভিন্ন দেশে সফর করেন তিনি।

ক্লিনটনের কার্যালয়ের ভাষ্য, এসব সফর ছিল ফাউন্ডেশনের কাজের অংশ। মার্কিন কংগ্রেসে দেওয়া শপথনামায় তিনি বলেন, বড় আকারের বিমানটি তাঁর স্টাফ ও সিক্রেট সার্ভিস সদস্যদের জন্য উপযোগী ছিল। তিনি আরও দাবি করেন, কখনোই এপস্টেইনের কুখ্যাত ব্যক্তিগত দ্বীপে যাননি।

২০০২ সালের সেপ্টেম্বরে আফ্রিকা সফর বিশেষভাবে আলোচিত হয়। সে সময় তিনি নিউইয়র্ক ম্যাগাজিনকে এপস্টেইনকে ‘অত্যন্ত সফল অর্থলগ্নিকারী ও প্রতিশ্রুতিশীল সমাজসেবী’ বলে উল্লেখ করেছিলেন।

এপস্টেইনের পতন, ম্যাক্সওয়েলের দণ্ড

২০০৮ সালে এক নাবালিকার কাছ থেকে যৌন সেবা নেওয়ার দায়ে এপস্টেইন দোষ স্বীকার করেন এবং কারাদণ্ড ভোগ করেন। ২০১৯ সালে আরও অপরাধের বিচার শুরুর আগেই কারাগারে তিনি আত্মহত্যা করেন।

২০২১ সালে চার কিশোরীকে এপস্টেইনের কাছে নিয়ে গিয়ে যৌন নির্যাতনে সহায়তার দায়ে গিলেইন ম্যাক্সওয়েল দোষী সাব্যস্ত হন। ২০২৫ সালে মার্কিন বিচার বিভাগকে দেওয়া জবানবন্দিতে তিনি দাবি করেন, ক্লিনটন ও এপস্টেইনের সাক্ষাৎ তাঁর মাধ্যমেই হয়েছিল। তবে কংগ্রেসের শুনানিতে তিনি সাংবিধানিক অধিকার দেখিয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান।

ডগ ব্যান্ড এক বিবৃতিতে বলেন, ম্যাক্সওয়েলের সঙ্গে তাঁর ইমেইল যোগাযোগের সময় তিনি অবিবাহিত ও তরুণ ছিলেন। তিনি গিলেইনকে ‘দানব’ বলে উল্লেখ করেন এবং তাঁর সঙ্গে ক্লিনটনের কোনো শারীরিক সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও পরবর্তী অনুশোচনা

২০০৫ সালে নিউইয়র্কে ক্লিনটন গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ক্লিনটন বিশ্বনেতাদের নিয়ে বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানান। এতে অংশ নেন সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার-সহ প্রভাবশালী ব্যক্তিত্বরা।

গিলেইন নিজেকে ওই উদ্যোগে ‘খুবই কেন্দ্রীয়’ ভূমিকার দাবিদার বললেও ক্লিনটনের দপ্তর এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য এড়িয়ে গেছে।

২০২৪ সালে প্রকাশিত আত্মজীবনীতে ক্লিনটন লেখেন, এপস্টেইনকে তিনি ‘অদ্ভুত’ মনে করতেন, তবে তাঁর অপরাধ সম্পর্কে কিছু জানতেন না। তিনি স্বীকার করেন, এপস্টেইনের বিমানে ভ্রমণ ফাউন্ডেশনের কাজ দেখতে সাহায্য করেছিল, কিন্তু পরবর্তী বিতর্কের মূল্য ছিল অনেক বেশি। তাঁর ভাষায়, ‘ইশ, যদি কখনো তাঁর সঙ্গে দেখা না হতো।’