এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ০২ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাংক ‘কুইন্সি ইনস্টিটিউট ফর রেসপন্সিবল স্টেটক্রাফট’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা ত্রিতা পারসি মনে করেন, ইরান নিয়ে মার্কিন ও ইসরায়েলের কৌশল ছিল দেশটির শীর্ষস্থানীয় নেতাদের একের পর এক হত্যা করা, যতক্ষণ না কেউ আত্মসমর্পণ করতে রাজি হয়।
তবে পারসি মনে করেন, এই কৌশল বা ধারণা একটি বড় ধরনের ভুল হিসাব ছিল। তিনি আল জাজিরাকে বলেছেন, ট্রাম্প ভেবেছিলেন পারস্য উপসাগরে বিমানবাহী রণতরী পাঠিয়ে ইরানকে এতটাই আতঙ্কিত করা যাবে যে তারা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হবে। কিন্তু তিনি বুঝতে পারেননি যে, ইরানের বিশেষ ধর্মতান্ত্রিক সরকার যুদ্ধের চেয়ে আত্মসমর্পণকে অনেক বেশি ভয় পায়।
পারসি আরও বলেন, ইরান সরকার বিশ্বাস করে যে তারা হয়তো একটি যুদ্ধ সামলে টিকে থাকতে পারবে, কিন্তু আত্মসমর্পণ করলে তাদের টিকে থাকা আর সম্ভব হবে না।
তিনি যুক্ত করেন, এমন কাউকে খুঁজে পাওয়া যে আত্মসমর্পণ করতে রাজি হবে—তার জন্য কেবল একের পর এক নেতৃত্বকে সরিয়ে দিলেই হবে না, বরং পুরো দেশটাকেই কার্যত ধ্বংস করে দিতে হবে।
ত্রিতা পারসি আশা প্রকাশ করেছেন, ট্রাম্প প্রশাসন জানে না এই লক্ষ্য অর্জন করতে কত সময় লাগবে, এমনকি আদৌ তা সম্ভব কি না। এই সময়ের মধ্যে ইরানের কৌশল হবে—যুক্তরাষ্ট্র, মার্কিন সেনা, বিশ্ব অর্থনীতি, প্রতিবেশী দেশ এবং বৈশ্বিক বাজারের ওপর যতটা সম্ভব আঘাত হানা। এর মূল উদ্দেশ্য হলো পরিস্থিতিকে ট্রাম্পের জন্য এতটাই ব্যয়বহুল করে তোলা যেন তিনি এই পথে হাঁটার সাহসই না পান।
ইরান এবার পরিকল্পনা করছে কৌশলীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাতে, যেটি তাদের শত্রুদের জন্য অনিশ্চিত এবং ব্যয়বহুল করে তুলবে।