ঢাকা, বুধবার, মার্চ ৪, ২০২৬ | ২০ ফাল্গুন ১৪৩২
Logo
logo

ইউরোপকে সরাসরি হুঁশিয়ারি ইরানের, সংঘাতে জড়ালে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ দেখবে তেহরান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ০৩ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

ইউরোপকে সরাসরি হুঁশিয়ারি ইরানের, সংঘাতে জড়ালে ‘যুদ্ধ ঘোষণা’ দেখবে তেহরান

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতের মাঝেই ইউরোপীয় দেশগুলোকে কড়া বার্তা দিল ইরান। স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—এই যুদ্ধে কেউ যোগ দিলে তা সরাসরি ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল হিসেবে দেখা হবে।

তেহরানে কড়া সতর্কবার্তা

মঙ্গলবার রাজধানী তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে এই হুঁশিয়ারি দেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Ismail Baghaei।

তিনি বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংঘাতে European Union (ইইউ)-এর দেশগুলো যেন যোগ না দেয়। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ সক্ষমতা ধ্বংস করার জন্য জার্মানি, ব্রিটেন ও ফ্রান্স “প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা” নিতে পারে—এমন ইঙ্গিতের পরই তেহরান এই সতর্কবার্তা দেয়।

ইসমাইল বাঘাই স্পষ্ট করে বলেন, “এটি যুদ্ধের শামিল হবে। ইরানের বিরুদ্ধে এ ধরনের যেকোনও পদক্ষেপকে হামলাকারীদের সঙ্গে যোগসাজশ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। একে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা হিসেবেই দেখা হবে।”

বাড়ছে প্রাণহানি

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক হামলায় ইরানে প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে ৭৮৭ জনে দাঁড়িয়েছে। গত চার দিন ধরে চলা হামলায় আহত হয়েছেন আরও হাজার হাজার মানুষ।

মঙ্গলবার Iran Red Crescent Society-এর পরিসংখ্যানের বরাত দিয়ে Agence France-Presse (এএফপি) এ তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলা শুরুর পর থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ৭৮০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও কয়েক হাজার।

তবে হতাহতের এই সংখ্যা স্বতন্ত্রভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছে এএফপি।

শতাধিক শহরে হামলা

রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, মাঠপর্যায়ের প্রতিবেদনে দেখা গেছে—মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানে ৭৮৭ জন নিহত হয়েছেন।

সংস্থাটি আরও জানিয়েছে, গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া সংঘাতে ইরানের ১৫৩টি শহর এবং ৫০০টিরও বেশি অবস্থান লক্ষ্য করে এক হাজারের বেশি হামলা চালানো হয়েছে।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত এখন কোন দিকে গড়ায়—সেটিই বড় প্রশ্ন। ইউরোপ জড়াবে, নাকি দূরত্ব বজায় রাখবে? পরিস্থিতি দ্রুত বদলাচ্ছে, আর বিশ্বজুড়ে বাড়ছে উদ্বেগ।