এনবিএস ওয়েবডেস্ক | প্রকাশিত: ০৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম
ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ৩০ কোটি ডলারের রাডার ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে ভবিষ্যতে হামলা প্রতিহত করার আঞ্চলিক সক্ষমতা দুর্বল হয়ে যেতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে শনিবার ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, সিএনএনের স্যাটেলাইট চিত্র দেখায় যে, যুদ্ধের শুরুর দিকে জর্ডানের মুওয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার RTX করপোরেশনের AN/TPY-2 রাডার এবং সহায়ক সরঞ্জাম ধ্বংস হয়েছে।
মার্কিন এক কর্মকর্তা পরে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। ব্লুমবার্গ জানিয়েছে, বিশ্বের মোট আটটি থাড ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের; যার মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও গুয়ামও অন্তর্ভুক্ত।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ জানায়, প্রতিটি ব্যাটারির মূল্য প্রায় এক বিলিয়ন ডলার, যার মধ্যে প্রায় ৩০ কোটি ডলার রাডারের জন্য ব্যয় হয়।
এর পাশাপাশি, ইরানের নৌবাহিনী দাবি করেছে, ইসরায়েল, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের ড্রোন হামলা চালিয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, শনিবারের হামলায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-মিনহাদ ঘাঁটি, কুয়েতের একটি ঘাঁটি এবং ইসরায়েলের কৌশলগত স্থাপনা লক্ষ্য করা হয়েছে।
পরবর্তীতে ইসলামিক রেভলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের আল-ধাফরা বিমানঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে। আইআরজিসি বিবৃতিতে বলেছে, এই হামলায় মার্কিন আকাশযুদ্ধ কেন্দ্র, স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্র, আর্লি ওয়ার্নিং রাডার এবং ফায়ার কন্ট্রোল রাডার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে দেশের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিকে হত্যা করার পর মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়ে। এরপর ইরান ইসরায়েল ও মার্কিন স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে।