ঢাকা, শনিবার, মার্চ ২১, ২০২৬ | ৭ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

পাকিস্তানে ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ, এমপিদের বেতন কমাল, দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটে কঠোর ব্যবস্থা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১১ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৩ এএম

পাকিস্তানে ৪ দিনের কর্মসপ্তাহ, এমপিদের বেতন কমাল, দেশজুড়ে জ্বালানি সংকটে কঠোর ব্যবস্থা

মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরানের চলমান সংঘাতের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পাকিস্তান মিতব্যয়ী পদক্ষেপ ও সঞ্চয় পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। সোমবার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ এই ঘোষণা দেন।

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো পাকিস্তানও বর্তমানে জ্বালানি সরবরাহের সংকটে পড়েছে। হরমুজ প্রণালীর মাধ্যমে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটায় বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা আঘাত শুরু করেছে ইরান। ফলে বিশ্বের প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি সরবরাহে বাধার মুখে পড়েছে।

পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের দাম ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সারা দেশে ব্যয় সংকোচন ও মিতব্যয়ী নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।

জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, পুরো অঞ্চল সংঘাতের কবলে পড়েছে। এই সংকট নিরসনে পাকিস্তান কূটনৈতিক তৎপরতা চালাচ্ছে। তিনি বলেন, “পরিস্থিতি শান্ত করতে পাকিস্তান সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে।”

শেহবাজ শরিফ পাকিস্তানের পশ্চিম সীমান্তে নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ ও সন্ত্রাসবাদের হুমকির কথাও উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “আমাদের সশস্ত্র বাহিনী পরিস্থিতি কার্যকরভাবে মোকাবিলা করছে।” এ সময় চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনিরের নেতৃত্বে সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের প্রশংসা করেন তিনি।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ওপর হামলা ও তাকে হত্যার নিন্দা জানিয়েছেন। এছাড়া উপসাগরীয় বন্ধুত্বপূর্ণ দেশগুলোতে পাল্টা হামলারও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।

বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবিলায় কেন্দ্রীয় ও প্রাদেশিক উভয় সরকার মিতব্যয়ী হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন পদক্ষেপগুলো হলো:

জ্বালানি সাশ্রয়: আগামী দুই মাস সরকারি গাড়িতে জ্বালানি বরাদ্দ ৫০ শতাংশ কমানো হবে। সরকারি দপ্তরের ৬০ শতাংশ গাড়ি ব্যবহার বন্ধ থাকবে।

বেতন কাটছাঁট: ফেডারেল মন্ত্রিসভার সদস্য, উপদেষ্টা ও বিশেষ সহকারীরা দুই মাস কোনো বেতন পাবেন না। সংসদ সদস্যদের বেতন ২৫ শতাংশ কমানো হয়েছে।

ব্যয় সংকোচন: সব সরকারি দপ্তরের ব্যয় ২০ শতাংশ কমানো হবে।

বিদেশ সফর: জরুরি প্রয়োজন ছাড়া সব ধরনের বিদেশ সফর নিষিদ্ধ, ভার্চুয়াল মিটিংকে অগ্রাধিকার।

অন্যান্য: ৩ লাখ রুপির বেশি মাসিক বেতনভোগী ২০তম গ্রেড ও তার ওপরের কর্মকর্তাদের দুই দিনের বেতন কাটা হবে। সরকারি নৈশভোজ ও ইফতার পার্টি নিষিদ্ধ।

কর্মসূচি পরিবর্তন: জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ৫০ শতাংশ জনবল বাসা থেকে কাজ করবেন। সরকারি অফিস সপ্তাহে চার দিন খোলা থাকবে, ব্যাংক এর আওতামুক্ত।

শিক্ষা খাত: স্কুল দুই সপ্তাহ বন্ধ থাকবে, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনলাইনে ক্লাস শুরু হবে।