এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১১ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৩ এএম

ইরানের সঙ্গে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধের অবসান কখন হবে, তা নিয়ে অবস্থান ভিন্ন। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু স্পষ্ট জানিয়েছেন, তার লক্ষ্য হলো এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি করা, যা ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের পতন ঘটাবে।
নেতানিয়াহু বলেছেন, এই যুদ্ধ কেবল শীর্ষ নেতৃত্বকে হত্যা বা সরকার দুর্বল করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বর্তমান সরকারের শাসন অবসান ঘটিয়ে বন্ধুত্বপূর্ণ ইরান প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।
তিনি প্রকাশ্যে ট্রাম্পের সঙ্গে বিরোধ নেই জানালেও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে জনগণকে বার্তা দেওয়া হয়েছে—এই কাজ সম্পন্ন করতে যত সময় প্রয়োজন, তারা তা নেবে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বলছেন, চলমান যুদ্ধ ইরানের ক্ষমতাসীন শাসকগোষ্ঠীকে ক্ষমতাচ্যুত করার ‘জীবনের সেরা সুযোগ’। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ অংশ নিতে চায়, ইসরায়েল ততক্ষণ ইরানে সর্বোচ্চ ক্ষয়ক্ষতি নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্মকর্তারা বলছেন, যুদ্ধের সময়কাল নির্ধারণ কেবল তেহরানের হাতে। তারা তাদের সেনাবাহিনীকে দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য প্রস্তুত বলে দাবি করছে।
ইরানজুড়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা অব্যাহত রয়েছে। তেহরান থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তোহিদ আসাদি জানিয়েছেন, তিনি তেহরানের কেন্দ্রস্থলে হামলার লক্ষ্যবস্তু পরিদর্শন করেছেন এবং সেখানে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় শুনেছেন।
ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) আরও উন্নত অস্ত্র ব্যবহার করে পাল্টা হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে।
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিয়ন সার জানিয়েছেন, ইসরায়েল ইরানের সঙ্গে ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ চায় না এবং যুদ্ধ শেষ হওয়ার সময় নিয়ে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সমন্বয় করবে। তিনি বলেছেন, “যুদ্ধ শেষ করার সঠিক সময় নির্ধারণ করতে আমাদের আমেরিকান বন্ধুদের সঙ্গে পরামর্শ হবে। আমরা কোনও দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ চাই না।”
কিংস কলেজ লন্ডনের সিকিউরিটি স্টাডিজের সহযোগী অধ্যাপক আন্দ্রেয়াস ক্রিগ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের শর্তাবলি নির্ধারণের চেষ্টা করতে পারে। তারা চাইবে ইরানকে যথেষ্ট দুর্বল করা হোক, যাতে ইরান জয় দাবি করে যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসতে পারে।
কিন্তু ক্রিগ মনে করেন, উত্তেজনার নিয়ন্ত্রণ ইরানের হাতেই রয়েছে। তিনি বলেন, “ইরান ও উপসাগরীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা, হরমুজ প্রণালি ও জ্বালানি সরবরাহের নিরাপত্তা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধের ফলাফল নির্ধারণ করবে। মার্কিন কৌশলগত অর্জনের কথার সঙ্গে এটার সম্পর্ক নেই।”