ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সরবরাহ সংকট, বিকল্প হিসেবে মার্কিন তেল ও গ্যাসে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১১ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৩ পিএম

ইরান-ইসরায়েল সংঘাতে সরবরাহ সংকট, বিকল্প হিসেবে মার্কিন তেল ও গ্যাসে ঝুঁকছে এশিয়ার দেশগুলো

মধ্যপ্রাচ্যের জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমাতে এখন বিকল্প উৎসের খোঁজে নামছে এশিয়ার দেশগুলো। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের কারণে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বিশ্ববাজারে মার্কিন তেল ও গ্যাসের চাহিদা দ্রুত বাড়ছে।

বাজারদর বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান ‘আর্গাস মিডিয়া’ জানিয়েছে, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকেই এশিয়ায় সরবরাহ করা মার্কিন ‘লাইট সুইট ক্রুড’ তেলের দাম ব্যাপকভাবে বেড়েছে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, এই তেলের দাম ৪৭ শতাংশ বেড়ে এখন ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১১৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। একই সময় মার্কিন তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবহনের ভাড়াও চার গুণ পর্যন্ত বেড়ে গেছে।

পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, ইউরোপের উদ্দেশে যাত্রা করা অন্তত চারটি এলএনজিবাহী জাহাজ মাঝপথ থেকে ঘুরিয়ে এশিয়ার দিকে পাঠানো হয়েছে।

আর্গাস মিডিয়ার এশিয়া অঞ্চলের প্রধান ফাবিয়ান এনজি জানিয়েছেন, যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই জাপানের তেল শোধনাগারগুলো আগামী জুনে সরবরাহের জন্য প্রায় ৯০ লাখ ব্যারেল মার্কিন অপরিশোধিত তেল কিনেছে।

তবে দাম বেশি হওয়ায় এশিয়ার অনেক দেশ এখনই বড় ধরনের চুক্তি করতে চাইছে না। তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে বলে জানান তিনি।

এদিকে এশিয়ার দেশগুলোর প্রায় ৮০ শতাংশ জ্বালানি যে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে আসে, সেখানে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।

মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, মঙ্গলবার ওই জলপথের কাছ থেকে তারা ইরানের ১৬টি মাইন স্থাপনকারী জাহাজ ধ্বংস করেছে।

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি ইরানকে উদ্দেশ করে বলেছেন, প্রণালিতে মাইন স্থাপনের পরিণাম ভালো হবে না।

সংঘাতের কারণে জ্বালানির প্রধান উৎসে সমস্যা তৈরি হওয়ায় ইন্দোনেশিয়া ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলো এখন তাদের মজুত করা তেলের ওপর নির্ভর করছে। তবে এই মজুত বড়জোর কয়েক সপ্তাহ চলতে পারে।

গবেষণা সংস্থা ‘এনার্জি অ্যাসপেক্টস’-এর বিশ্লেষকদের মতে, বিশ্ববাজারে মধ্যপ্রাচ্যের তেলের যে ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা পূরণ করার মতো উৎপাদন সক্ষমতা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নেই।

সংস্থাটির বিশ্ব গ্যাস বিষয়ক প্রধান লিভিয়া গ্যালারাতি বলেন, “এলএনজি সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এশিয়ার অনেক দেশ এখন মজুত করা জ্বালানি ব্যবহার করছে। কেউ কেউ গ্যাসের বদলে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করছে, আবার অনেক শিল্পকারখানা উৎপাদন কমিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছে।”