এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১২ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

বছরের প্রথম আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ম্যাচে বাংলাদেশ ধুমকেতুর মতো জ্বলে উঠেছে। সিরিজের প্রথম ম্যাচে তারা পাকিস্তানকে ৮ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছে। সফরকারী দল মাত্র ১১৪ রানে অলআউট হয়ে যায় নাহিদ রানা ও মেহেদী হাসান মিরাজের ঝড়ো বোলিংয়ে। লক্ষ্য তাড়ায় টাইগাররা মাত্র ১৫.১ ওভারে ২ উইকেট হারিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
এই জয়ের পর পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ আমির নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলছেন, বাংলাদেশ তাদের ‘সিলেবাসের বাইরের প্রশ্ন’ দিয়ে পাকিস্তানকে আটকে দিয়েছে। পাশাপাশি তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেছেন, এমন পরিস্থিতিতে পাকিস্তান কি “সহযোগী দেশ” হিসেবে নামছে কি না।
বাংলাদেশের চতুর কৌশল, পাকিস্তানের ব্যাটারদের দুর্বলতা
আমির বলেন, “মিরপুরে স্পিন উইকেট হবে ভেবেছিলাম, কিন্তু বাংলাদেশ ঘাসে ঢাকা বাউন্সি উইকেট বানিয়ে চমকে দিয়েছে। আমরা টার্নিং উইকেটের কথা ভাবছিলাম; তারা বানিয়ে দিল গতির উইকেট। যেন ‘আউট অব সিলেবাস’ প্রশ্ন চলে এসেছে। আমাদের ব্যাটসম্যানরা ১৪০ প্লাস গতির বোলার দেখলেই লাফালাফি শুরু করে দেয়। নাহিদ রানা ও মেহেদী মিরাজ অসাধারণ বল করেছে, বিশেষ করে নাহিদ ১৪০ এর বেশি গতিতে বল করছিল।”
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানের ব্যাটিং বিপর্যয়ের পেছনে অনুশীলনের অভাব এবং নির্বাচকদের ভুল বাছাই দায়ী। “মাজ সাদাকাত বা শামিল হোসেনদের মতো তরুণদের টেকনিকে অনেক ভুল আছে। তারা মিড-উইকেটে খেলতে চায়, কিন্তু অফ স্টাম্পের বল বোঝে না। আমরা এখন বাংলাদেশের কাছেও হারতে শুরু করেছি। শেষ পর্যন্ত আমাদের সহযোগী দেশ না হয়ে যাওয়ার ভয় আছে। সিনিয়র খেলোয়াড় বাদ দিয়ে শুধুই তরুণদের উপর নির্ভর করা যায় না। দলে সিনিয়র-জুনিয়রদের ভারসাম্য থাকতে হবে।”
সিরিজ জয়ের সম্ভাবনা ও বাংলাদেশি বোলিংয়ের শক্তি
সাবেক পাকিস্তানি পেসার আরও বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের দুম্বার মতো মেরেছে, যেন ওরাও মজা পাচ্ছিল। যে উইকেটে আমরা ১১৪ রান করেছি, সেই উইকেটে তারা মাত্র ১৫.১ ওভারে রান তাড়া করে ফেলেছে। বাংলাদেশ কোনো স্পিন ট্র্যাক দেবে না। তাদের তিনজন ফাস্ট বোলারই শক্তিশালী, যারা ১৩৫-১৪০ গতিতে বল করে, বিশেষ করে নাহিদ রানা। তারা সিরিজ জেতার জন্য এই সুযোগটাই নেবে।”
এবারের সিরিজে পাকিস্তানের দুর্বলতা এবং বাংলাদেশের চতুর কৌশল ক্রিকেট মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে তরুণ ক্রিকেটারদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞদের অভাব নিয়ে পাকিস্তান সমালোচনার মুখে।