ঢাকা, রবিবার, জুন ৭, ২০২৬ | ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩
Logo
logo

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে ইরানের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইলের নতুন কৌশল


এনবিএস ওয়েবডেস্ক  | প্রকাশিত:  ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জে ফেলেছে ইরানের ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইলের নতুন কৌশল

ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত তীব্র হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নতুন এক কৌশল ব্যবহার শুরু করেছে ইরান। এবার তারা ক্লাস্টার ব্যালিস্টিক মিসাইল ব্যবহার করছে, যার মূল লক্ষ্য ইসরায়েলের শক্তিশালী আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দেওয়া।

সাধারণ মিসাইলের তুলনায় এই মিসাইলের কার্যপ্রণালী একেবারেই ভিন্ন। যখন ক্লাস্টার মিসাইল লক্ষ্যবস্তুর কাছাকাছি পৌঁছে যায়, তখন এর ভেতর থেকে ছোট ছোট বিস্ফোরক বোঝাই বোমা আকাশের অনেক ওপরে থেকেই বের হয়ে আসে।

এরপর সেগুলো বৃষ্টির মতো নিচে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিস্তৃত এলাকায় আঘাত হানে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের বেশিরভাগ মিসাইল সাধারণত ২৪টি বোমা বহন করতে পারে। কিন্তু তাদের খোরমানশারহ মিসাইল বহন করতে পারে প্রায় ৮০টি ক্লাস্টার বোমা, যা আঘাতের পরিধি অনেক বেশি বাড়িয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, ইসরায়েলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা মূলত বড় আকারের মিসাইল আটকানোর জন্য তৈরি। তাই ছোট আকারের ক্লাস্টার বোমার বিরুদ্ধে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা খুব কার্যকর নাও হতে পারে।

এমনকি প্রতিরক্ষা মিসাইল ক্লাস্টার মিসাইলে আঘাত করলেও, অনেক সময় সেই মিসাইল থেকে ছোট ছোট বোমা বের হয়ে যায় এবং সেগুলো নিচে পড়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে পারে।

ইসরায়েলের বিখ্যাত আয়রন ডোম ব্যবস্থা ছোট আকারের লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করতে সক্ষম। তবে সমস্যা হলো, ইরানের ক্লাস্টার বোমাগুলো খুবই ছোট এবং অত্যন্ত দ্রুতগতিতে আসে। ফলে সেগুলো ধ্বংস করতে আয়রন ডোমকেও বেশ কষ্ট করতে হয়।

মিসাইল বিশেষজ্ঞ টাল ইনবার জানিয়েছেন, ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা মিসাইলকে ফাঁকি দিয়ে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতেই কৌশল হিসেবে ইরান ক্লাস্টার মিসাইল ব্যবহার করছে।

এই ছোট বোমাগুলোও বেশ বিধ্বংসী হতে পারে। কয়েকদিন আগে তেলআবিবে এমন একটি ক্লাস্টার বোমার আঘাতে দুজন নির্মাণকর্মী নিহত হন।

তবে ক্লাস্টার বোমার ব্যবহার আন্তর্জাতিকভাবে নিষিদ্ধ। কারণ এসব বোমা ছড়িয়ে পড়ে এবং নির্দিষ্ট লক্ষ্য ছাড়াও আশপাশের অনেক জায়গায় আঘাত হানতে পারে, যা সাধারণ মানুষের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করে।