এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৩ মার্চ, ২০২৬, ০২:০৩ পিএম

ইরান যুদ্ধের উত্তাপে যখন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে, ঠিক তখনই বড় এক কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ওয়াশিংটন। রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকলেও, বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে রুশ তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের বিশেষ ‘উইন্ডো’ বা সময়সীমা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে। তবে এই অনুমতি পুরোপুরি নিঃশর্ত নয়—নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে জাহাজীকরণ এবং নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে লেনদেন শেষ করার মতো কঠোর শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।
জানা গেছে, সমুদ্রের মাঝপথে আটকে থাকা রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য কেনার জন্য বিভিন্ন দেশকে ৩০ দিনের বিশেষ লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার এ ঘোষণা দেন। তিনি জানান, ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অস্থির হয়ে ওঠা বিশ্ব জ্বালানি বাজারকে স্থিতিশীল রাখতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে চার বছরের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। এমন পরিস্থিতিতে দাম নিয়ন্ত্রণে আনতেই ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানা গেছে।
অপরিশোধিত তেলের দাম ১০০ ডলার ছাড়ানোর কয়েক ঘণ্টা পরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ এক বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন বেসেন্ট। তিনি উল্লেখ করেন, এই সিদ্ধান্তের ফলে রাশিয়ার সরকার বড় ধরনের আর্থিক সুবিধা পাবে না।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, গত ১২ মার্চের মধ্যে জাহাজে বোঝাই করা রুশ অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়াম পণ্য সরবরাহ ও বিক্রির অনুমতি আগামী ১১ এপ্রিল ওয়াশিংটন সময় মধ্যরাত পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।
অর্থাৎ এই বিশেষ লাইসেন্স শুধু ১২ মার্চের আগে জাহাজে বোঝাই করা পণ্যের ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য।
এর আগে ৫ মার্চ ভারতের জন্যও একই ধরনের ৩০ দিনের বিশেষ ছাড় দিয়েছিল মার্কিন ট্রেজারি বিভাগ। এর ফলে সমুদ্রে আটকে থাকা রুশ তেল কেনার সুযোগ পায় নয়াদিল্লি।
এদিকে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ফাইন্যান্স কর্পোরেশন (DFC)-কে পারস্য উপসাগরে সামুদ্রিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ঝুঁকি বীমা ও আর্থিক নিশ্চয়তা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
এমনকি তিনি জানিয়েছেন, ওই অঞ্চলে বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে নিরাপদে পার করে দিতে মার্কিন নৌবাহিনীও সহায়তা করতে পারে।
ইরান ও মার্কিন-ইসরায়েলের পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। এর ফলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলও স্থবির হয়ে পড়েছে।
এরই মধ্যে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (IRGC) হুঁশিয়ারি দিয়েছে, হামলা বন্ধ না হলে তারা পারস্য উপসাগর থেকে সব ধরনের তেল সরবরাহ বন্ধ করে দিতে পারে।
এমন সংকটের মধ্যে তেলের দাম কমাতে জরুরি মজুত থেকে ১৭ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণাও দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।