ঢাকা, রবিবার, মার্চ ১৫, ২০২৬ | ১ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করার অঙ্গীকার আইআরজিসির, উত্তেজনা তুঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৫ মার্চ, ২০২৬, ০৪:০৩ পিএম

নেতানিয়াহুকে খুঁজে বের করে হত্যা করার অঙ্গীকার আইআরজিসির, উত্তেজনা তুঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে উত্তেজনা আরও বাড়ল নতুন এক ঘোষণায়। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী Benjamin Netanyahu-কে খুঁজে বের করে হত্যার অঙ্গীকার করেছে ইরানের শক্তিশালী সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)।

রোববার আইআরজিসির এক বিবৃতিতে সরাসরি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। ফরাসি বার্তা সংস্থা Agence France-Presse (এএফপি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও United States-এর সঙ্গে চলমান সংঘাতের মধ্যেই আইআরজিসি এই হুমকি দিয়েছে। আইআরজিসি পরিচালিত সংবাদমাধ্যম Sepah News-এ প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়,
“যদি এই শিশু হত্যাকারী অপরাধী বেঁচে থাকে, তবে আমরা সম্পূর্ণ শক্তি দিয়ে তাকে তাড়া করব এবং হত্যা করব।”

নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে জল্পনা

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নেতানিয়াহুর অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। গত কয়েক দিন ধরে তাকে জনসমক্ষে দেখা যাচ্ছে না বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে।

গত ১২ মার্চ নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত একটি ভিডিও নিয়েও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। ভিডিওতে তার হাতের আঙুল এমনভাবে দেখা যায়, যেন এক হাতে ছয়টি আঙুল রয়েছে।

অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেন, ভিডিওটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে সম্পাদনা করা হয়েছে কি না। তবে পরে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, বাস্তবে তার হাতে পাঁচটিই আঙুল রয়েছে। ক্যামেরা ও আলো–ছায়ার কারণে ভিডিওতে সেটি ছয়টি মনে হয়েছে।

যুদ্ধ শুরুর পর প্রথম ভিডিও

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে বিমান হামলা শুরু হওয়ার পর ওই ভিডিওটি ছিল ৭৬ বছর বয়সী নেতানিয়াহুর প্রথম সংবাদ সম্মেলনের ভিডিও।

সেই বক্তব্যে তিনি ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা Mojtaba Khamenei-কে হত্যার পরোক্ষ হুমকিও দিয়েছিলেন এবং ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানের পক্ষে সাফাই গেয়েছিলেন।

হিব্রু ভাষায় দেওয়া ওই ভাষণে নেতানিয়াহু বলেছিলেন,
“আমি আমাদের নেওয়া পদক্ষেপগুলোর বিস্তারিত ব্যাখ্যা করব না। আমরা ইরানি শাসনব্যবস্থাকে উৎখাতের জন্য অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করছি। তবে শেষ পর্যন্ত ইরানের জনগণই এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করবে কি না, তা আমি নিশ্চিত করে বলতে পারি না।”

‘বিবি কোথায়?’—সামাজিক মাধ্যমে প্রশ্ন

এদিকে মার্কিন রক্ষণশীল রাজনৈতিক ভাষ্যকার Candace Owens-সহ অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশ্ন তুলেছেন— “বিবি কোথায়?” (নেতানিয়াহুর ডাকনাম বিবি)।

শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম X-এ এক পোস্টে তিনি বলেন,
“নেতানিয়াহুর অফিস কেন ভুয়া এআই ভিডিও প্রকাশ করছে এবং পরে তা মুছে দিচ্ছে? আর কেন White House-এ এত আতঙ্ক দেখা যাচ্ছে?”

নেতানিয়াহুর মৃত্যুর খবর নাকচ

এদিকে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় নেতানিয়াহুর মৃত্যুর গুজব সরাসরি নাকচ করেছে।

তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা Anadolu Agency-কে দেওয়া এক প্রতিক্রিয়ায় নেতানিয়াহুর দপ্তর জানিয়েছে,
“নেতানিয়াহুকে হত্যা করা হয়েছে—এমন দাবি সম্পূর্ণ ভুয়া। প্রধানমন্ত্রী সুস্থ ও নিরাপদ আছেন।”

তবে এখন পর্যন্ত নেতানিয়াহুর দপ্তর বা তার সহকারীরা আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কোনো বিবৃতি দেয়নি।

অন্যদিকে কিছু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারী দাবি করছেন, নেতানিয়াহুর ছেলে Yair Netanyahu-কেও সম্প্রতি অনলাইনে দেখা যাচ্ছে না। এক্সে প্রায় ২ লাখ ৮৪ হাজার অনুসারী থাকা সত্ত্বেও তিনি গত ৯ মার্চের পর আর কোনো পোস্ট করেননি।