ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ১৭, ২০২৬ | ৩ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি কে, জীবন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো এক নজরে


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৭ মার্চ, ২০২৬, ০৭:০৩ পিএম

ইরানের প্রভাবশালী নেতা আলী লারিজানি কে, জীবন ও রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো এক নজরে

মঙ্গলবার ইরানের রাজধানী Tehran-এ দেশটির সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান Ali Larijani-কে লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। ধারণা করা হচ্ছে, এই হামলায় তিনি নিহত হয়েছেন।

৭৭ বছর বয়সী আলী লারিজানি ইরানের মাজানদারান প্রদেশের আমোল শহরের একটি বিত্তবান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তবে তার জন্ম হয়েছিল ইরাকের Najaf-এ, ১৯৫৮ সালে। তার বাবা ছিলেন ইরানের একজন খ্যাতনামা আলেম। মাত্র ২০ বছর বয়সে তিনি ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা Ruhollah Khomeini-এর মেয়ে ফারিদেহ মোতাহারিকে বিয়ে করেন। তখনও খোমেনি সর্বোচ্চ নেতা হননি। তাদের বিয়ের এক বছর পর, ১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামি বিপ্লব ঘটে এবং এরপরই খোমেনি সর্বোচ্চ নেতা হন।

শিক্ষাজীবনে সমবয়সীদের তুলনায় ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছিলেন লারিজানি। মাদ্রাসার পরিবর্তে তিনি পাশ্চাত্য ধাঁচের শিক্ষায় পড়াশোনা করেন। উচ্চমাধ্যমিক শেষে গণিত ও কম্পিউটার বিজ্ঞানে ডিগ্রি নেন, পরে পাশ্চাত্য দর্শনে ডক্টরেট সম্পন্ন করেন। তার গবেষণার বিষয় ছিল জার্মান দার্শনিক Immanuel Kant-এর দর্শন।

১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরানের অভিজাত সামরিক বাহিনী Islamic Revolutionary Guard Corps-এ যোগ দেন লারিজানি। কয়েক বছর পর সামরিক জীবন ছেড়ে প্রশাসনে যোগ দেন এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম আইআরআইবি’র শীর্ষ নির্বাহী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৫ সালে তিনি সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী সচিব হন। ২০০৭ সালে পদত্যাগের পর ২০০৮ সালে ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার হিসেবে দায়িত্ব নেন।

টানা তিন মেয়াদ স্পিকার থাকার পর ২০১৫ সালে বিশ্ব শক্তিগুলোর সঙ্গে ইরানের পরমাণু চুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন লারিজানি। এই চুক্তিতে যুক্ত ছিল United States, United Kingdom, Russia, France, China এবং Germany।

২০২৫ সালের আগস্টে আবারও সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের নির্বাহী সচিবের দায়িত্বে ফেরেন লারিজানি। মঙ্গলবারের হামলার আগ পর্যন্ত তিনি এই পদেই দায়িত্ব পালন করছিলেন।