এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ২৬ মার্চ, ২০২৬, ০৩:০৩ পিএম

ভাবুন তো, আপনি একা দৌড়াচ্ছেন আর দৌড় শেষে ঘোষণা করা হলো—আপনি প্রথম হয়েছেন! অবাক হচ্ছেন? হওয়ারই কথা, কিন্তু উত্তর কোরিয়ার ডিক্টেটর কিম জং উনের কাছে এটাই হলো আসল ‘গণতন্ত্র’। সম্প্রতি সেখানে নির্বাচন হলো, আর কিম ভাই একাই পেয়েছেন ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট! কিন্তু আসল মজা সেখানে নয়, আসল মজা হলো সেই ০.০৭ শতাংশ মানুষের ওপর যারা কিমকে ‘না’ বলে দিয়েছেন। আজ বলবো কিমের সেই ‘ভুতুড়ে’ ভোটারদের গল্প যারা কিমের চোখের ঘুম কেড়ে নিয়েছে। ভিডিওটি শেষ পর্যন্ত দেখুন, কারণ শেষে থাকছে কিমের বাড়ির অন্দরমহলের ঝগড়ার খবর!
আজ আমাদের আলোচনার বিষয় হলো পৃথিবীর সবচেয়ে রহস্যময় দেশ উত্তর কোরিয়া। ইংরেজিতে একটা কথা আছে, "The winner takes it all"—অর্থাৎ জয়ী সব কিছুই পায়। কিন্তু উত্তর কোরিয়ার ক্ষেত্রে প্রবাদটা একটু ঘুরিয়ে বলতে হয়, "চোর পালালে বুদ্ধি বাড়ে, আর কিম এলে ভোট বাড়ে!" সেখানে ভোট হওয়া মানেই কিমের পকেটে ১০০ তে ১০০ নম্বর। কিন্তু এবার কিম ভাই একটু কপাল খারাপ করে ফেলেছেন, কারণ তিনি ১০০ পাননি, পেয়েছেন ৯৯.৯৩! বাকি ০.০৭ শতাংশ মানুষ কোথায় গেল? তারা কি ভিনগ্রহের প্রাণী? চলুন জেনে নিই।
পেশায় ডিক্টেটর হলেও কিম জং উন মাঝেমধ্যেই একটু ‘গণতন্ত্র’ ‘গণতন্ত্র’ খেলা খেলতে পছন্দ করেন। গত ১৫ মার্চ উত্তর কোরিয়ার ১৫তম সুপ্রিম পিপল্স অ্যাসেম্বলির ভোটগ্রহণ হলো। আর ফল প্রকাশের পর দেখা গেল, কিমের ‘ওয়ার্কার্স পার্টি’ সব আসনেই জিতে গেছে। একদম ক্লিন সুইপ! সরকারি পরিসংখ্যান বলছে, ৯৯.৯৩ শতাংশ মানুষ কিমকেই আবার রাজা হিসেবে দেখতে চায়। মানে দেশের সব মানুষই কিমকে ভালোবাসে, শুধু হাতেগোনা কয়েকটা মানুষ বাদ দিয়ে। এখন প্রশ্ন হলো, যারা কিমকে ভোট দেয়নি, তারা কি এখনো জীবিত আছে?
অংকটা একটু লক্ষ্য করুন, এই যে ০.০৭ শতাংশ ভোটার কিমকে প্রত্যাখ্যান করলো, এরা কারা? রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম KCNA খুব সুন্দর করে একটা হিসেব দিয়েছে। তারা বলছে, ভোটারদের মধ্যে ০.০০৩৭ শতাংশ লোক বিদেশে ছিল, আর ০.০০০০৩ শতাংশ লোক সমুদ্রে মাছ ধরছিল, তাই তারা ভোট দিতে পারেনি। কিন্তু তাও তো হিসেব মিলছে না! একটা ছোট্ট অংশ ঠিকই ব্যালটে ‘না’ লিখে দিয়ে এসেছে। একেই বলে বাঘের ঘরে ঘোগের বাসা! কিমের মতো জাঁদরেল নেতার মুখে যারা ‘না’ বলতে পারে, তাদের সাহস তো হিমালয়ের সমান!
অনেকে ভাবতে পারেন, উত্তর কোরিয়ায় বুঝি আমাদের দেশের মতো অনেক দল আছে। মোটেও না! সেখানে নিয়ম হলো—প্রতিটি এলাকায় মাত্র একজন প্রার্থী দাঁড়াবেন, আর তিনি অবশ্যই কিমের পছন্দের লোক। ব্যালট পেপারে আপনার কাছে কোনো ‘অপশন’ নেই। আপনার কাজ হলো শুধু ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ তে সিল মারা। মানে আপনার বিয়েতে আপনাকে কনে দেখতে দেওয়া হয়নি, শুধু বলা হয়েছে—একে বিয়ে করবেন কি করবেন না? এমন অবস্থায় ৯৯ শতাংশ মানুষ তো ‘হ্যাঁ’ বলবেই, তাই না? না বললে তো আবার রাতের ডিনারটা মিস হতে পারে!
সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, উত্তর কোরিয়া এই প্রথম স্বীকার করেছে যে কেউ তাদের ‘না’ বলেছে। ১৯৫৭ সালের পর থেকে তারা সবসময় বলে আসতো—সবাই আমাদের পক্ষে! কিন্তু এবার হঠাৎ করে তারা এই ০.০৭ শতাংশ ‘না’ ভোটের কথা কেন প্রচার করলো? অনেকে মজা করে বলছেন, কিম হয়তো দেখাতে চাচ্ছেন যে তাদের দেশেও ‘বাক স্বাধীনতা’ আছে! মানে আপনি ‘না’ বলতে পারেন, তবে সেই ‘না’ বলার পর আপনি কোথায় যাবেন সেটা কিম ভাইই ভালো জানেন। এটি আসলে কিমের এক ধরণের মনস্তাত্ত্বিক খেলা।
এখন আসি কিমের বাড়ির অন্দরমহলের খবরে। কিম জং উনের পর এই সোনার সিংহাসনে কে বসবে? ইদানীং কিম তার ১৩ বছরের কন্যা কিম জু এ-কে সাথে নিয়ে সব জায়গায় ঘুরছেন। কেউ কেউ বলছেন, মেয়েই হবে পরবর্তী ‘সুপ্রিম লিডার’। কিন্তু ঘরের শত্রু বিভীষণ! কিমের বোন কিম ইয়ো জং কিন্তু মোটেও ছেড়ে দেওয়ার পাত্রী নন। তিনি বর্তমানে দেশটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শক্তিশালী মানুষ। পিয়ংইয়ংয়ের বাতাসে গুঞ্জন চলছে—ফুফু বনাম ভাইঝির এই লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কার কপাল পুড়বে? কিম কি পারবেন তার রাজত্ব মেয়ের হাতে তুলে দিতে?
কিমের বোন কিম ইয়ো জং শুধু সুন্দরী নন, তিনি বেশ ভয়ংকরও বটে! সেনাবাহিনীতে তার ব্যাপক দাপট। অন্যদিকে কিমের আদরের মেয়ে জু এ এখন থেকেই প্রটোকল পাচ্ছে। দক্ষিণ কোরিয়ার গোয়েন্দারা বলছেন, উত্তর কোরিয়ার রাজপরিবারে এখন একটা অলিখিত সংঘাত চলছে। একদিকে কিমের রক্ত, অন্যদিকে কিমের বোন। এই মিউজিক্যাল চেয়ার খেলায় কে হারে আর কে জেতে, সেটাই দেখার বিষয়। তবে যাই হোক, নির্বাচন শেষে কিম আবারও সিংহাসনে। তিনি আছেন তার মেজাজেই, বাকিরা শুধু হিসেব মেলাচ্ছে।
তো দর্শক, এই ছিল উত্তর কোরিয়ার অদ্ভুত নির্বাচনের মজার সব তথ্য। কিম জং উন ৯৯.৯৩ শতাংশ ভোট পেয়েও যে ০.০৭ শতাংশের জন্য চিন্তায় আছেন, তা শুনে আপনাদের কি মনে হয়? সেই সাহসের ০.০৭ শতাংশ ভোটাররা এখন কোথায়? কমেন্টে আপনার মজার মতামত জানান।