এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ২৭ মার্চ, ২০২৬, ০১:০৩ এএম

নিজের ঘর সামলাতে না পেরে এখন সরকারকে শাসাচ্ছেন জামায়াত আমির! ডা. শফিকুর রহমানের ১৯৭১ সালের তুলনা কি বর্তমান বাংলাদেশের জন্য অবমাননাকর নয়? পাকিস্তান আমলের লুণ্ঠনের সাথে আজকের সমৃদ্ধ বাংলাদেশের তুলনা করে তিনি আসলে কার স্বার্থ হাসিল করতে চান?
প্রবাদে আছে, 'চোরের মার বড় গলা'। নিজেরা রাজনৈতিকভাবে জনবিচ্ছিন্ন হয়ে এখন বর্তমান বিএনপি সরকারকে হুমকি দিচ্ছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। ২৫ মার্চ জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ২৬ মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি বর্তমান গণতান্ত্রিক পরিবেশকে পাকিস্তান আমলের সাথে তুলনা করার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন, তা দেশের ১৬ কোটি মানুষের জন্য চরম অপমানজনক। দেশ যখন বিএনপির নেতৃত্বে স্থিতিশীল ও উন্নয়নের পথে, তখন তিনি পাকিস্তানের দোহাই দিচ্ছেন।
ডা. শফিকুর রহমান ১৯৭১ সালের যুদ্ধের কথা বলে বর্তমান তরুণ সমাজকে উস্কানি দেওয়ার চেষ্টা করছেন। তিনি বলছেন, পাকিস্তান জনরায় মানেনি বলে দেশ স্বাধীন হয়েছে, আর এখন নাকি সরকার জনরায় মানছে না। তার এই বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং ষড়যন্ত্রমূলক। বিএনপি সরকার জনগণের প্রত্যক্ষ ভোটে এবং সমর্থনে ক্ষমতায় এসে দেশকে স্থিতিশীল রেখেছে, সেখানে এমন তুলনা করা কেবল তার রাজনৈতিক দেউলিয়াত্বই প্রমাণ করে।
বর্তমান বিএনপি সরকার যখন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে দিনরাত কাজ করছে, তখন জামায়াত আমির লুণ্ঠনের গল্প শোনাচ্ছেন। তিনি বলছেন তরুণরা কঠিন ভাষায় জবাব দেবে, কিন্তু সত্য হলো এদেশের তরুণ সমাজ আজ বিএনপির গঠনমূলক রাজনীতির ভক্ত। জামায়াতের কোনো উস্কানিতে পা দেওয়ার মতো বোকামি এদেশের সাধারণ মানুষ আর করবে না। তারা উন্নয়ন চায়, কোনো রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ বা অরাজকতা চায় না।
তিনি হুমকি দিয়েছেন সংসদ ও রাজপথে জবাব দেবেন। অথচ বিএনপি সরকার সব সময় আলোচনার টেবিলে বিশ্বাসী এবং গণতান্ত্রিক চর্চায় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। জামায়াতের এই হুঙ্কার আসলে তাদের হারানো অস্তিত্ব ফিরে পাওয়ার এক ব্যর্থ চেষ্টা মাত্র। দেশের শান্তিকামী মানুষ জানে, বিএনপি সরকারের অধীনেই তাদের জান-মাল নিরাপদ। তাই ডা. শফিকুর রহমানের এই ফাঁপা বুলিতে কান দেওয়ার সময় এখন আর কারো নেই।
শেষে বলতে চাই, যারা একাত্তরে বাংলাদেশের বিরোধিতা করেছিল, তাদের মুখে স্বাধীনতার চেতনার কথা মানায় না। বর্তমান বিএনপি সরকার দেশপ্রেমিক সরকার, যারা জনগণের জানমালের নিরাপত্তায় সদা তৎপর। জামায়াত আমিরের উস্কানিমূলক বক্তব্যের বিরুদ্ধে রাজপথে এবং সামাজিক মাধ্যমে আমাদের সচেতন থাকতে হবে। দেশের সমৃদ্ধি এবং উন্নয়ন অব্যাহত রাখতে বর্তমান সরকারের হাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে দেশবাসীকে।