ঢাকা, রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২৬ | ১৫ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক’ কথাটি সংবিধানের লঙ্ঘন: আওয়ামী খেলায় আসিফ মাহমুদ


এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক     প্রকাশিত:  ২৯ মার্চ, ২০২৬, ০৬:০৩ এএম

শহীদ জিয়া স্বাধীনতার ঘোষক’ কথাটি সংবিধানের লঙ্ঘন: আওয়ামী খেলায় আসিফ মাহমুদ

রক্ত দিয়ে লেখা ইতিহাস কি কেবল একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে মুছে ফেলা সম্ভব? আসিফ মাহমুদ আজ সংবিধানের দোহাই দিয়ে যাকে অস্বীকার করছেন, সেই জিয়াউর রহমানের কণ্ঠ না শুনলে একাত্তরে বাঙালির মুক্তি আসত কি না, সেই প্রশ্ন আজ জনমনে!

চোরে না শোনে ধর্মের কাহিনী, আর মূর্খে না বোঝে ইতিহাসের বাণী। বর্তমান সময়ে অদ্ভুত সব কাণ্ডকারখানা আমরা চারপাশেই দেখতে পাচ্ছি। বিশেষ করে যারা হঠাৎ করে বড় বড় নেতা হয়ে যান, তারা যেন ইতিহাসকে নিজের পকেটবন্দি মনে করেন। সম্প্রতি জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া তেমনই এক কাণ্ড ঘটিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা নাকি সংবিধানের লঙ্ঘন। কী আজব এক তামাশা, তাই না?

গত শুক্রবার ২৭ মার্চ নিজের ফেসবুক আইডিতে এক স্ট্যাটাসে তিনি এই বোমা ফাটিয়েছেন। আসিফ সাহেব যেন এক রাতের মধ্যেই সংবিধান বিশেষজ্ঞ হয়ে উঠেছেন। তিনি লিখেছেন, শহীদ জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক বলা নাকি সংবিধানের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। যেন তার স্ট্যাটাসেই দেশের ইতিহাস নির্ধারিত হবে। অথচ ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ কার কণ্ঠস্বর মানুষের মনে সাহস জুগিয়েছিল, তা আজ তিনি ভুলে গেছেন।

আসিফ মাহমুদ শুধু লিখেই ক্ষান্ত হননি, কমেন্ট বক্সে সংবিধানের ষষ্ঠ তফসিলের একটি ছবিও যুক্ত করে দিয়েছেন। সেখানে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণার কথা উল্লেখ আছে। বাহ! আসিফ সাহেব তো বেশ ভালোই ছবি তুলতে পারেন। কিন্তু তিনি কি জানেন না যে, কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে কার বজ্রকণ্ঠে প্রথম স্বাধীনতার ঘোষণা ছড়িয়ে পড়েছিল সারা বাংলায়? সেই সত্য কি ছবিতে ঢাকা যায়?

ইতিহাস সাক্ষী দেয়, যখন শীর্ষ নেতারা বন্দি বা পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন, তখন এই জিয়াউর রহমানই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে গর্জে উঠেছিলেন। ‘আই মেজর জিয়া ডিক্লেয়ার ইন্ডিপেন্ডেন্স’—এই একটি বাক্যই ছিল দিশেহারা বাঙালির আশার আলো। আসিফ মাহমুদরা তখন কোথায় ছিলেন? সম্ভবত ইতিহাসে তাদের কোনো নামগন্ধও ছিল না। এখন সংবিধানের দোহাই দিয়ে সেই বীরের অবদান মুছে ফেলার অপচেষ্টা হাস্যকর।

শেখ মুজিবুর রহমান বড় নেতা ছিলেন ঠিকই, কিন্তু মাঠ পর্যায়ে স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে বিভ্রান্তি ছিল, তা দূর করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তার সেই বলিষ্ঠ ঘোষণা না এলে সাধারণ মানুষ জানতেই পারত না কী করতে হবে। অথচ আজ কিছু মানুষ সংবিধানের দোহাই দিয়ে তাকে খাটো করতে চায়। ইতিহাস কি শুধু কাগজে লেখা হয়? না, ইতিহাস তো মানুষের হৃদয়ে গেঁথে থাকে।

আসিফ মাহমুদের এই স্ট্যাটাস দেখে মনে হচ্ছে, তিনি হয়তো নতুন কোনো ইতিহাস বই লিখতে চাইছেন যেখানে জিয়াউর রহমানের কোনো নাম থাকবে না। মি. আসিফ, ফেসবুকের লাইক আর কমেন্ট দিয়ে ইতিহাস বদলানো যায় না। আপনি সংবিধানের যে পৃষ্ঠার ছবি দিয়েছেন, সেটি তো পরবর্তীকালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বারবার সংশোধন করা হয়েছে। আসল ইতিহাস তো সেই বেতার তরঙ্গে এখনো প্রতিধ্বনিত হয়।

দেশের সাধারণ মানুষ কিন্তু সব বোঝে। কারা স্বাধীনতার সময় অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করেছে আর কারা আরাম-আয়েশে ছিল, তা গোপন কিছু নয়। জিয়াউর রহমান রণাঙ্গনের বীর, তিনি শুধু ঘোষকই নন, তিনি ছিলেন যুদ্ধের অগ্রসেনানি। আসিফ মাহমুদের মতো নবীন নেতারা সংবিধানের দোহাই দিয়ে তার আকাশছোঁয়া জনপ্রিয়তাকে ধুলোয় মিশিয়ে দিতে পারবে না। এটা কেবল দুঃস্বপ্ন ছাড়া আর কিছুই নয়।

শেষে বলতে চাই, সংবিধান জনগণের জন্য, ইতিহাসকে মুছে ফেলার জন্য নয়। আসিফ মাহমুদ সাহেবকে বলবো, সংবিধানের দোহাই দেওয়ার আগে একাত্তরের সেই দিনগুলোর রেকর্ডগুলো একটু শুনুন। মানুষের ভালোবাসা আর শ্রদ্ধা কোনো কাগজের আইনে আটকা পড়ে থাকে না। শহীদ জিয়া চিরকালই বাংলাদেশের মানুষের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক হিসেবে বেঁচে থাকবেন। ইতিহাস নিয়ে ছিনিমিনি খেলা বন্ধ করা উচিত।

আসিফ মাহমুদের এই বিতর্কিত মন্তব্যের প্রতিবাদে আপনার কী মতামত? আপনারা কি মনে করেন সংবিধানের দোহাই দিয়ে ইতিহাসের সত্যকে আড়াল করা সম্ভব? কমেন্ট করে আমাদের জানান এবং ভিডিওটি শেয়ার করে সত্য ইতিহাস সবার কাছে পৌঁছে দিন। যারা ইতিহাস বিকৃতি করতে চায়, তাদের চোখে আঙুল দিয়ে সত্যটা দেখিয়ে দেওয়া আমাদের সবার দায়িত্ব। আজ এ পর্যন্তই, সবাই ভালো থাকুন।

মনে রাখবেন, সত্য সূর্যের মতো, মেঘ দিয়ে তাকে সাময়িকভাবে ঢাকা যায় কিন্তু নেভানো যায় না। জিয়াউর রহমান ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন মানুষের হৃদয়ে। যারা তাকে মুছে ফেলতে চায়, তারাই একদিন ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হবে। আসিফ মাহমুদদের মতো মৌসুমি পাখিরা আসবে যাবে, কিন্তু স্বাধীনতার ঘোষণা চিরদিন অবিনশ্বর হয়েই থাকবে আমাদের প্রিয় এই বাংলাদেশে।