এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

জেরুজালেমের পবিত্র আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে আবারও বিতর্কিতভাবে প্রবেশ করেছেন ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির। রোববার কঠোর পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে তিনি তার সমর্থকদের নিয়ে মসজিদ এলাকায় ঢোকেন। একই সময়ে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে, আর গুলিতে আহত হয়েছেন আরও ৭ জন।
জেরুজালেমের ইসলামিক ওয়াকফ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকালে বেন গভির একদল কট্টরপন্থী ইহুদিকে সঙ্গে নিয়ে আল-আকসা প্রাঙ্গণে প্রবেশ করেন। কুব্বাতুস-সাখরা বা ডোম অব দ্য রকের দিকে এগোতে গিয়ে তাকে হাততালি দিতে, গান গাইতে এবং ইহুদি ধর্মীয় আচার পালন করতে দেখা যায়।
এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জেরুজালেম গভর্নরেট। তাদের দাবি, এটি একটি সুস্পষ্ট উসকানিমূলক পদক্ষেপ, যার মাধ্যমে আল-আকসার দীর্ঘদিনের ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক স্থিতাবস্থা বদলে সেখানে দখলদারিত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চলছে।
পরিসংখ্যান বলছে, ২০২২ সালের শেষদিকে মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর এখন পর্যন্ত ১৬ বার আল-আকসায় প্রবেশ করেছেন বেন গভির। শুধু ২০২৪ সালেই তিনি তিনবার এই পবিত্র স্থানে ঢুকেছেন, যা নিয়ে আগেও বিতর্ক তৈরি হয়েছিল।
এদিকে আল-আকসা ইস্যুকে ঘিরে উত্তেজনার মধ্যেই পশ্চিম তীরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। ফিলিস্তিনি রেড ক্রিসেন্ট জানিয়েছে, দক্ষিণ হেবরনের জাহারিয়া এলাকায় গুলিতে দুই যুবক আহত হয়েছেন। উত্তরের শহর নাবলুসে অভিযানের সময় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরের উরুতে গুলি লাগে এবং ৩৯ বছর বয়সী এক ব্যক্তি মাথায় স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন।
জেরুজালেমের উত্তরের শহর আর-রামেও অভিযান চালানো হয়। সেখানে টিয়ারগ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড হামলায় আরও তিন ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
ফিলিস্তিনি সংবাদ সংস্থা ওয়াফার খবরে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় বেথলেহেমের দহিশা শরণার্থী শিবির, হেবরনের বাইত উম্মার, জেরিকোর আকবাত জাবের এবং নাবলুস এলাকা থেকে একজন নারীসহ মোট ১৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
অন্যদিকে জেরুজালেমের সিলওয়ান এলাকায় এক হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটেছে। মাহমুদ আল-তবিল নামে এক ফিলিস্তিনিকে নিজের বাড়ি নিজেকেই গুঁড়িয়ে দিতে বাধ্য করেছে দখলদার কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েলি মিউনিসিপালিটির দাবি, বাড়িটি নির্মাণে বৈধ অনুমতি ছিল না। অথচ গত ১০ বছর ধরে স্ত্রী ও চার সন্তান নিয়ে ওই বাড়িতেই বসবাস করছিলেন মাহমুদ। শেষ পর্যন্ত বড় অঙ্কের জরিমানা এড়াতে নিজের হাতেই নিজের আশ্রয় ধ্বংস করতে হয় তাকে।