এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো মার্কিন সামরিক জাহাজ চলাচল করেছে—এমন খবর সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান। একই সঙ্গে তেহরান কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, কোনো যুদ্ধজাহাজ এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ ব্যবহার করতে চাইলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের পাল্টাপাল্টি এমন হুমকিতে চরম উদ্বেগে রয়েছে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলো। কারণ এই প্রণালী দিয়েই তাদের অর্থনীতির প্রধান চালিকা শক্তি—তেল রপ্তানি—নির্ভরশীল।
গত ২৪ ঘণ্টার পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করলে হরমুজ প্রণালীর বর্তমান সংকট আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। শনিবার মাত্র তিনটি জাহাজ এই পথ অতিক্রম করতে পেরেছে—যার দুটি ছিল চীনের এবং একটি লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী। প্রতিটি জাহাজ প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল তেল বহন করতে সক্ষম হলেও, স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা একেবারেই কম। যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১০০টি জাহাজ এই প্রণালী ব্যবহার করত।
রোববার আরও দুটি জাহাজ এই পথে যাওয়ার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত ফিরে যেতে বাধ্য হয়। ঠিক কী কারণে তারা ফিরে গেছে তা নিশ্চিত না হলেও, পরিস্থিতি দেখে বোঝা যাচ্ছে—এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ এখন আর নিরাপদ নেই।
তবে হরমুজ প্রণালী স্বাভাবিক হওয়ার অপেক্ষায় বসে নেই উপসাগরীয় দেশগুলো। কাতার ইতোমধ্যেই সমুদ্রপথে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরব জানিয়েছে, তারা তাদের পূর্ব-পশ্চিম পাইপলাইন পুরো ক্ষমতায় চালু করতে সক্ষম হয়েছে। ইরানের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর এখন এটি আবার সম্পূর্ণ সচল।
এই পাইপলাইনটি সৌদি আরবের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এটি হরমুজ প্রণালীকে এড়িয়ে প্রতিদিন প্রায় ৭০ লাখ ব্যারেল তেল পরিবহন করতে পারে। পাশাপাশি দেশটির দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলে থাকা মানিফা তেলক্ষেত্র থেকেও অতিরিক্ত প্রতিদিন প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল তেল সরবরাহের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
সংকটের এই সময়ে নিজেদের অর্থনীতি সচল রাখতে বিকল্প পথ ও নতুন কৌশলই এখন উপসাগরীয় দেশগুলোর সবচেয়ে বড় ভরসা হয়ে উঠেছে।