এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান সংঘাত থামাতে ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত সংলাপে ইরান আন্তরিকতা ও সদিচ্ছা নিয়েই অংশ নিয়েছিল—এমনটাই দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী সৈয়দ আব্বাস আরাগচি। তার ভাষায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গিয়েছিল তেহরান। কিন্তু শেষ মুহূর্তে মার্কিন প্রতিনিধিদের কঠোর অবস্থান, আলোচনার ইস্যু পরিবর্তন এবং অবরোধের কারণে সেই চুক্তি আর হয়নি।
রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে এসব তথ্য জানান আরাগচি। একই সঙ্গে সংলাপ ব্যর্থ হওয়ায় হতাশাও প্রকাশ করেন তিনি।
আরাগচি তার বার্তায় বলেন, “৪৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রথম সরাসরি ও নিবিড় সংলাপে ইরান সদিচ্ছা নিয়েই অংশ নিয়েছিল। আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল যুদ্ধের অবসান।”
তিনি আরও বলেন, “আমরা যখন ‘ইসলামাবাদ মেমোর্যান্ডাম অব আন্ডারস্ট্যান্ডিং (এমওইউ)’ চুক্তি স্বাক্ষরের একেবারে কাছাকাছি—মাত্র কয়েক ইঞ্চি দূরে—তখনই অপরপক্ষের চরম অবস্থান, আলোচনার লক্ষ্য পরিবর্তন এবং অবরোধের মুখে পড়তে হয়।”
সংলাপের অভিজ্ঞতা নিয়ে হতাশা প্রকাশ করে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “এই আলোচনায় আমাদের শিক্ষা বা প্রাপ্তি—দুটোই শূন্য। সদিচ্ছা থেকে সদিচ্ছা জন্মায়, আর শত্রুতা শুধু শত্রুতাই বাড়ায়।”
ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন নিয়ে গত দুই দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের বিরোধ চলছে। এসব ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা ২১ দিন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ হয়। তবে কোনো সমঝোতা ছাড়াই ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই আলোচনা শেষ হয়।
এরপরই ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইসরায়েলও ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে পৃথক সামরিক অভিযান শুরু করে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সংঘাতের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি, যিনি দীর্ঘ ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। ওই দিনের হামলায় তার পরিবারের সদস্যরাও প্রাণ হারান—স্ত্রী, কন্যা, নাতি এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রী নিহত হন। আর মোজতবা খামেনি নিজে গুরুতর আহত হন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কূটনৈতিক উদ্যোগ হিসেবে গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। সেই ধারাবাহিকতায় ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিদের মধ্যে নতুন করে সংলাপ শুরু হয়। তবে টানা ২১ ঘণ্টা আলোচনা চললেও শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তি ছাড়াই বৈঠক শেষ হয়।