ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ১৩, ২০২৬ | ৩০ চৈত্র ১৪৩২
Logo
logo

পাকিস্তান আলোচনার ব্যর্থতার পর ইরানে নতুন হামলার চিন্তা ট্রাম্পের, তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৩ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

পাকিস্তান আলোচনার ব্যর্থতার পর ইরানে নতুন হামলার চিন্তা ট্রাম্পের, তীব্র হচ্ছে উত্তেজনা

পাকিস্তানে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনা স্থায়ীভাবে যুদ্ধ থামাতে ব্যর্থ হওয়ার পর ইরানে আবারও বিমান হামলার কথা ভাবছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প—এমনটাই জানিয়েছে মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রোববার হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ ঘোষণার পাশাপাশি ইরানে নতুন করে বিমান হামলার বিষয়টিও ট্রাম্পের বিবেচনায় রয়েছে।

এদিকে মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ কার্যকর করা হবে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র স্পষ্ট করেছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে অন্য দেশে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোর চলাচলে তারা বাধা দেবে না। এরই মধ্যে এই অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে তেলের দাম আবারও ১০০ ডলারের ওপরে উঠে গেছে।

অন্যদিকে ইরানি সংসদের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো হুমকির কাছেই তেহরান নতি স্বীকার করবে না।

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের এই প্রতিবেদন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে হোয়াইট হাউজ বিবিসিকে জানায়, সব ধরনের পথ এখনো খোলা রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউজের মুখপাত্র অলিভিয়া ওয়েলস বলেন, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যেই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের নির্দেশ দিয়ে ইরানের ‘চাঁদাবাজি’ বন্ধ করেছেন। একইসঙ্গে পরিস্থিতি বুঝে সব বিকল্প পথও খোলা রাখা হয়েছে। তার ভাষায়, ট্রাম্প পরবর্তী কী পদক্ষেপ নেবেন—এ নিয়ে যেসব কথা বলা হচ্ছে, সেগুলো কেবল অনুমান।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্পের একটি পোস্টের পরই হরমুজ প্রণালিতে নৌ অবরোধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ওই পোস্টে তিনি বলেন, মার্কিন নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করা যেকোনো জাহাজকে অবরোধ করবে।

অন্যদিকে ইসলামিক রেভুলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, এই নৌপথের কাছাকাছি আসা যেকোনো সামরিক জাহাজের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরেকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টে ট্রাম্প বলেন, পাকিস্তানে ইরানের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ব্যর্থ হয়েছে, কারণ ইরান তাদের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়তে রাজি নয়।

ওয়াশিংটন ডিসির কাছে মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইরান এখন আলোচনায় ফিরুক বা না ফিরুক—তা নিয়ে তার কোনো মাথাব্যথা নেই।

তিনি বলেন, “তারা ফিরে আসুক বা না আসুক, আমার কিছু যায় আসে না। না এলেও আমি ঠিক আছি।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও দাবি করেন, ইরান এখনো পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে চায় এবং ইসলামাবাদের বৈঠকেও তারা সেই ইচ্ছার কথা জানিয়েছে।