এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৪ এপ্রিল, ২০২৬, ০২:০৪ পিএম

১৪ দিনের যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগেই আবারও সরাসরি সংলাপে বসতে চাইছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ইতোমধ্যেই এ বিষয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাব্য ভেন্যু হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদকে বেছে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ দেখিয়েছে দুই পক্ষই। মার্কিন সংবাদমাধ্যম ব্লুমবার্গের বরাত দিয়ে এএফপি জানিয়েছে, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে হওয়া বৈঠক ব্যর্থ হলেও কূটনৈতিক যোগাযোগ চালু রাখতে দুই দেশই আগ্রহী।
ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনের পর এএফপি পাকিস্তানি কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে তারা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। পাশাপাশি কূটনৈতিক পথেই দুই দেশের মধ্যকার মতপার্থক্য ও উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে বলেও জানান তারা।
উল্লেখ্য, ইরানের পরমাণু কর্মসূচি এবং ক্ষেপণাস্ত্র প্রকল্প নিয়ে গত দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির টানাপোড়েন চলছে। এ ইস্যুতে গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২১ দিন ধরে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সংলাপ চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি সেই আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়।
এর পরের দিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ইরানে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। একই সময়ে ইরানে ‘অপারেশন রোয়ারিং লায়ন’ নামে সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েলও।
যুদ্ধের প্রথম দিনেই নিহত হন আয়াতুল্লাহ খামেনি, যিনি টানা ৩৭ বছর ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। এছাড়া ইরানের শাসকদলের আরও কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা ওই হামলায় প্রাণ হারান বলে জানানো হয়।
পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠলেও কূটনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে যুদ্ধের ৩৯তম দিন, অর্থাৎ ৭ এপ্রিল, যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এরপরই ১১ এপ্রিল পাকিস্তানের ইসলামাবাদে দুই দেশের প্রতিনিধিরা আবারও আলোচনায় বসেন। তবে প্রায় ২১ ঘণ্টা দীর্ঘ বৈঠকের পরও কোনো চূড়ান্ত সমঝোতা বা চুক্তি হয়নি বলে জানা গেছে।