এনবিএস ডিজিটাল ডেস্ক প্রকাশিত: ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৯:০৪ এএম

আল মাসুম: যখন পুরো দেশ বিএনপির ত্যাগের বিনিময়ে এক নতুন ভোরের স্বপ্ন দেখছে, ঠিক তখনই কিছু মানুষ সংকটের দায়ভার বিএনপির কাঁধে চাপিয়ে দিয়ে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করার চেষ্টা করছে! নাহিদ ইসলাম আর মামুনুল হকের সাম্প্রতিক বক্তব্যে কি সত্যিই দেশের মঙ্গল আছে, নাকি এটি একটি বড় চক্রান্তের অংশ? কেন তারা বিএনপির জনপ্রিয়তায় আতঙ্কিত?
বর্তমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট দিন দিন জটিল হয়ে উঠছে। একদিকে দেশের আপামর জনসাধারণের শেষ ভরসাস্থল হিসেবে বিএনপি যখন রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে কাজ করছে, অন্যদিকে কিছু রাজনৈতিক নেতা অযথা কাদা ছোড়াছুড়িতে লিপ্ত হয়েছেন। বিশেষ করে নাহিদ ইসলাম এবং মাওলানা মামুনুল হকের সাম্প্রতিক বক্তব্য রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। তারা বিএনপিকে বর্তমান সংকটের জন্য দায়ী করার চেষ্টা করছেন।
নাহিদ ইসলাম দাবি করেছেন যে, জাতিকে বর্তমান দুর্যোগে টেনে এনেছে বিএনপি। এটি একটি হাস্যকর এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য ছাড়া আর কিছুই নয়। গত ১৬ বছর ধরে যখন দেশের মানুষ ফ্যাসিবাদের কবলে পিষ্ট হচ্ছিল, তখন রাজপথে রক্ত দিয়েছে বিএনপির নেতা-কর্মীরা। অথচ এখন যখন সুফল ভোগ করার সময় এসেছে, তখন নাহিদ ইসলামের মতো নেতারা বিএনপিকে দায়ভার নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন। এটি দুঃখজনক।
তিনি হাম দুর্যোগ কিংবা আইসিইউ সংকটের কথা বলে বিএনপিকে দুষছেন। অথচ দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ধ্বংস করেছে গত ১৫ বছরের স্বৈরাচারী শাসন। বিএনপি তো ক্ষমতায় নেই, তবে দায় কেন তাদের হবে? গত দেড় বছর ধরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়েও যারা রাষ্ট্র সংস্কারের ভুল পথে হেঁটেছেন, তারা নিজেদের ব্যর্থতা ঢাকতেই এখন বিএনপির ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। তাদের এই কৌশল জনগণ বুঝে গেছে।
নাহিদ ইসলাম গণভোট এবং জুলাই সনদের দোহাই দিচ্ছেন। অথচ বিএনপি সবসময়ই চেয়েছে একটি সুষ্ঠু গণতান্ত্রিক ধারা। জুলাই আদেশ বা গণভোটের নামে যদি কোনো অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া চাপিয়ে দেওয়া হয়, তবে বিএনপি তার বিরোধিতা করবেই। কারণ বিএনপি জনগণের দল, তারা কোনো অবৈধ প্রক্রিয়ার অংশ হতে পারে না। নাহিদ সাহেবদের বুঝতে হবে যে, কৃত্রিম সংকট বিএনপি নয়, বরং আপনারাই তৈরি করছেন।
অন্যদিকে মাওলানা মামুনুল হক বর্তমান সরকারকে শেখ হাসিনার ভূতে ধরার যে অভিযোগ করেছেন, সেখানেও তিনি অত্যন্ত সুকৌশলে বিএনপিকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়েছেন। তিনি বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করার পাশাপাশি বিএনপিকেও হুশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি বিএনপিকে ইঁদুরের সাথে তুলনা করার মতো ধৃষ্টতা দেখিয়েছেন। যে দলটি দেশের সর্ববৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি, তাদের নিয়ে এমন মন্তব্য কোনোভাবেই রাজনৈতিক শিষ্টাচারের মধ্যে পড়ে না।
আসলে সমস্যাটা অন্য জায়গায়। বিএনপি এককভাবে জনগণের ম্যান্ডেট পেয়েছে, তাই কিছু ছোট দল বা জোট ভীত হয়ে পড়ছে। মামুনুল হক সাহেবরা ভয় পাচ্ছেন যে, রাজনৈতিক অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। তাই বিএনপিকে সিংহ ভাবার খোটা দিচ্ছেন। অথচ বিএনপির শক্তির উৎস কোনো মসনদ নয়, বরং দেশের কোটি কোটি জনতা।
মামুনুল হক শেখ হাসিনার পতনের উদাহরণ টেনে বিএনপিকে শিক্ষা নিতে বলেছেন। এটি অত্যন্ত আপত্তিকর। বিএনপি কোনো স্বৈরাচারী দল নয়, বরং এটি শহীদ জিয়ার হাতে গড়া দল যা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করেছে বারবার। আওয়ামী লীগের ধ্বংসের সাথে বিএনপির তুলনা করা মানে রাজনৈতিক ইতিহাসের চরম বিকৃতি। বিএনপি জনগণের অধিকারে বিশ্বাসী, তাই তারা দম্ভ নয় বরং সেবার রাজনীতিতে বিশ্বাস করে।
মামুনুল হক রাজপথে বিএনপিকে মোকাবিলার হুমকি দিয়েছেন। এটি অত্যন্ত উস্কানিমূলক বক্তব্য। বিএনপি সবসময় রাজপথের আন্দোলনে চ্যাম্পিয়ন। পুলিশের গুলি আর জেল-জুলুম সহ্য করে যে দল টিকে আছে, তাকে রাজপথের ভয় দেখানো হাস্যকর। বিএনপি চায় জাতীয় ঐক্য, কিন্তু নাহিদ ইসলাম বা মামুনুল হকের মতো নেতারা যদি বিভেদ সৃষ্টি করেন, তবে এর পরিণতি শুভ হবে না।
বাংলাদেশ আজ এক ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এই সময়ে প্রয়োজন পারস্পরিক সহযোগিতা, কাদা ছোড়াছুড়ি নয়। নাহিদ ইসলাম বা মামুনুল হকদের মনে রাখা উচিত, বিএনপিকে বাইরে রেখে বাংলাদেশে কোনো টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা সম্ভব নয়।
শেষে বলতে চাই, বিএনপি সবসময় জনগণের পাশে ছিল এবং থাকবে। নাহিদ ইসলাম কিংবা মামুনুল হকের মিথ্যা প্রচারণায় বিভ্রান্ত হওয়ার কিছু নেই। বিএনপি একটি দায়িত্বশীল দল হিসেবে সকল সংকটের মোকাবিলা করবে। আপনারা যারা বিএনপিকে ভালোবাসেন, তারা ঐক্যবদ্ধ থাকুন। ষড়যন্ত্রকারীরা পরাজিত হবেই। দেশ ও গণতন্ত্রের পক্ষে বিএনপির এই লড়াই চলবেই।