ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৭০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি অবকাঠামো ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থা জানিয়েছে তেহরান


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ২৭০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি অবকাঠামো ও অর্থনীতি বিপর্যস্ত অবস্থা জানিয়েছে তেহরান

ইরানে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় দেশটির অর্থনীতি ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্রাথমিক হিসেবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার।

তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বলছে, এটি এখনো প্রাথমিক হিসাব। পূর্ণাঙ্গভাবে মূল্যায়ন শেষ হলে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে।

ইরানের ক্ষমতাসীন ইসলামি প্রজাতন্ত্রী সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি গতকাল মঙ্গলবার দেশটির আধাসরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে ২ হাজার ৭০০ কোটি ডলার। সরকার এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ মূল্যায়নের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ভবন ধ্বংস এবং শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় রাজস্ব ক্ষতির হিসাব।”

মোহাজেরানি আরও জানান, গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই ক্ষয়ক্ষতির তথ্য মার্কিন প্রতিনিধিদের কাছে তুলে ধরা হয়েছে।

ইরানের পারমাণবিক প্রকল্প এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দেশটির দীর্ঘদিনের বিরোধ এখনো চলমান। প্রায় দুই দশক ধরে এই ইস্যুতে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

গত ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ২১ দিন ধরে আলোচনা চলে। তবে ২৭ ফেব্রুয়ারি কোনো চুক্তি ছাড়াই সেই আলোচনা শেষ হয়।

এর পরদিন, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইরানে “অপারেশন এপিক ফিউরি” নামে সামরিক অভিযান শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র। একই সময় ইসরায়েলও “অপারেশন রোয়ারিং লায়ন” নামে আলাদা সামরিক অভিযান শুরু করে।

এই যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রথম দিনেই ইরানের সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দীর্ঘ ৩৭ বছর দায়িত্ব পালন করা আয়াতুল্লাহ খামেনি নিহত হন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের ক্ষমতাসীন সরকারের বেশ কয়েকজন শীর্ষ ও জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাও এই হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের অভ্যন্তরীণ অবকাঠামো, শিল্প খাত এবং অর্থনীতিতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে।