ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১৫, ২০২৬ | ২ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

ব্রাদার্সের চমকে শেষ চারে উত্তেজনা, বাফুফে ভবনে আবাহনী–মোহামেডানের ফুটবলারদের ‘সার্ক কোটা আন্দোলন’


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৫ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

ব্রাদার্সের চমকে শেষ চারে উত্তেজনা, বাফুফে ভবনে আবাহনী–মোহামেডানের ফুটবলারদের ‘সার্ক কোটা আন্দোলন’

বাংলা নববর্ষের রেশ এখনো কাটেনি। মতিঝিল পাড়ায় ফুটবল অঙ্গনের ব্যস্ততাও আবার শুরু হয়েছে। এরই মধ্যে বুধবার দুপুরে প্রায় ৩০–৪০ জন ফুটবলার তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) ভবনে জড়ো হন। সভাপতির উদ্দেশ্যে লেখা একটি চিঠি তারা বাফুফে সাধারণ সম্পাদক ইমরান হোসেন তুষারের কাছে জমা দেন।

বাংলাদেশের ঘরোয়া লিগে এবার সার্ক অঞ্চলের ফুটবলারদের স্থানীয় হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশীয় ফুটবল সংস্থার (সাফ) সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাফুফে এই নিয়ম চালু করেছে। তবে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করছেন লিগে খেলা অনেক দেশীয় ফুটবলার।

আবাহনী ও জাতীয় দলের ফুটবলার মো. ইব্রাহিম বলেন,
“সার্কের পাঁচজন, সার্কের বাইরের তিনজন আর একজন বয়সভিত্তিক খেলোয়াড় বাধ্যতামূলক খেলাতে হয়। ফলে তিনজন বিদেশি কোটা থাকলেও পাঁচজন সার্ক খেলোয়াড় থাকলে স্থানীয় খেলোয়াড়দের সুযোগ খুবই কমে যায়। তাই আমরা সার্ক কোটা বাতিলের দাবি জানিয়েছি।”

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক ও প্রতিযোগিতা বাড়াতে একে অপরের লিগে স্থানীয় হিসেবে খেলার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতসহ কয়েকটি দেশ এই নিয়ম চালু করেছে। তবে বাস্তবে পারস্পরিক সুযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন ফুটবলাররা।

জাতীয় দলের ডিফেন্ডার ও মোহামেডান খেলোয়াড় রহমত মিয়া বলেন,
“আমাদের দেশ থেকে শুধু তারিক কাজী ভুটানের লিগে খেলছে। কিন্তু অন্য কোনো দেশে আমাদের ফুটবলাররা তেমন সুযোগ পাচ্ছে না। অথচ বিদেশিরা ঠিকই আমাদের লিগে খেলছে। তাই আমরা ফেডারেশনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি।”

এবার বাংলাদেশ ফুটবল লিগে মোট ১০টি ক্লাব অংশ নিচ্ছে। দেশের দুই ঐতিহ্যবাহী ক্লাব আবাহনী ও মোহামেডানে কোনো সার্ক খেলোয়াড় নেই। তবে বাফুফে ভবনে স্মারকলিপি দিতে আসা ফুটবলারদের মধ্যে এই দুই ক্লাবের অনেক খেলোয়াড়ও ছিলেন।

ফুটবলাররা অভিযোগ করেন, ব্রাদার্স ইউনিয়নে বেশি সংখ্যক সার্ক খেলোয়াড় খেলানো হচ্ছে, যা তাদের মতে লিগে প্রতিযোগিতার ভারসাম্যে প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক ম্যাচে পাকিস্তানি এক ফুটবলারের একমাত্র গোলে ব্রাদার্স জয় পায়, আর তাতে আবাহনীর শেষ চারে ওঠার সম্ভাবনা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

ফুটবল সংশ্লিষ্ট অনেকেই মনে করছেন, আবাহনী–মোহামেডানের ফুটবলারদের এই দাবি ও ব্রাদার্সের সার্ক খেলোয়াড় নির্ভর সাফল্য নিয়ে মাঠের বাইরেও নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের কাছে দেওয়া চিঠিতে ফুটবলারদের আরও কিছু দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—দেশীয় খেলোয়াড়দের বেশি সুযোগ নিশ্চিত করা, দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় স্থানীয় খেলোয়াড় উন্নয়ন, লিগে দল সংখ্যা বৃদ্ধি, খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং বিদেশি খেলোয়াড় কোটা কমানো।

ফুটবল খেলোয়াড় কল্যাণ সমিতির প্যাডে প্রধান সমন্বয়কারী আবুল হোসেন স্বাক্ষর করেছেন। পাশাপাশি লিগে খেলা ফুটবলারদের পক্ষে আহসান হাবিব, আলমগীর করিব রানা, ইব্রাহিম ও মেহেদী চিঠিতে স্বাক্ষর করেন।

চলমান নিয়ম অনুযায়ী, একটি ক্লাবে সর্বোচ্চ পাঁচজন সার্ক অঞ্চলের খেলোয়াড় নিবন্ধন ও খেলতে পারবে। পাশাপাশি সার্কের বাইরে পাঁচজন বিদেশি নিবন্ধন করা যাবে, যার মধ্যে তিনজন একাদশে খেলবে এবং প্রয়োজনে একজন পরিবর্তিত হতে পারবে। এছাড়া একাদশে অবশ্যই একজন অনূর্ধ্ব-২০ বছর বয়সী খেলোয়াড় রাখতে হবে।