এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে নতুন এক ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে ইরান। দেশটি ওমান-সংলগ্ন অংশ দিয়ে জাহাজগুলোকে হামলার ঝুঁকি ছাড়াই অবাধে চলাচলের অনুমতি দেওয়ার একটি প্রস্তাব বিবেচনা করছে।
এই প্রস্তাবটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান আলোচনার অংশ হিসেবে এসেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। বিষয়টি প্রকাশ করেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্স।
সূত্রের বরাতে জানা গেছে, যদি নতুন করে সংঘাত ঠেকাতে চূড়ান্ত কোনো চুক্তি হয়, তাহলে এই ছাড় কার্যকর হতে পারে। কারণ সাম্প্রতিক সংঘর্ষে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটেছে।
হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) পরিবাহিত হয়। তাই এই অঞ্চলের অস্থিরতা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে সরাসরি প্রভাব ফেলছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের পর শত শত ট্যাঙ্কার ও জাহাজ এবং প্রায় ২০ হাজার নাবিক উপসাগরীয় অঞ্চলে আটকে পড়েছে।
এরপর ৮ এপ্রিল একটি দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। তবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো আলোচনার অন্যতম প্রধান ইস্যু।
ইরানের ঘনিষ্ঠ একটি সূত্র নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছে, ওমান-নিয়ন্ত্রিত অংশ দিয়ে জাহাজ চলাচল বাধাহীন করার বিষয়ে ইরান প্রস্তুত থাকতে পারে। তবে সেখানে কোনো মাইন অপসারণ করা হবে কি না বা ইসরায়েল সংশ্লিষ্ট জাহাজও এই সুবিধা পাবে কি না—এ বিষয়ে কিছু নিশ্চিত করা হয়নি।
সূত্রটি আরও জানিয়েছে, এই প্রস্তাবের ভবিষ্যৎ পুরোপুরি নির্ভর করছে ওয়াশিংটন ইরানের দাবিগুলোর প্রতি কতটা ইতিবাচক সাড়া দেয় তার ওপর।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস এবং ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কোনো মন্তব্য দেয়নি।
একজন পশ্চিমা নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওমানের জলসীমা দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধা না দেওয়ার ধারণাটি আগেই আলোচনায় ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কী অবস্থান নিয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালি মাত্র ৩৪ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। এটি ইরান ও ওমানের মধ্যে অবস্থিত এবং পারস্য উপসাগরকে ভারত মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে। মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে জ্বালানি ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্য পরিবহনের প্রধান পথ হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়।