এনবিএস ওয়েবডেস্ক প্রকাশিত: ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালি থেকে জলমাইন অপসারণে ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ নামের আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্র। গতকাল রোববার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স।
সাধারণত মার্কিন নৌবাহিনী জলমাইন অপসারণে মানবচালিত মাইন-সুইপিং জাহাজ ব্যবহার করে। এসব জাহাজে সোনার সিস্টেম থাকে, যা দিয়ে পানির নিচে পাতা মাইন শনাক্ত করে পরে ধ্বংস করা হয়। তবে এই পদ্ধতিতে জাহাজের ক্রুদের সরাসরি মাইনফিল্ডে প্রবেশ করতে হয়, যা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
কিন্তু ‘লিটোরাল কমব্যাট শিপ’ এই ঝুঁকি অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। হালকা ধরনের এই যুদ্ধজাহাজটি মূলত রিমোট-কন্ট্রোলড রোবটের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। মাইন শনাক্ত করা থেকে ধ্বংস করা—সব কাজই করে রোবট। ফলে সেনাদের আর সরাসরি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় যেতে হয় না; দূর থেকেই নিয়ন্ত্রণ করা যায় পুরো অভিযান।
বর্তমানে মার্কিন নৌবাহিনীর বহরে এমন ৩টি জাহাজ রয়েছে। তবে এর মধ্যে এখন কার্যকর আছে মাত্র একটি। বাকি দুটি জাহাজ মেরামতের জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে। মেরামত শেষ হলে সেগুলো আবার বহরে যুক্ত হবে বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল যুদ্ধ। এই সংঘাতের পর ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) হরমুজ প্রণালির বিভিন্ন স্থানে জলমাইন পেতে রাখে। ধারণা করা হচ্ছে, অন্তত এক ডজন মাইন পাতা হয়েছে সেখানে।
তবে কোথায় কোথায় মাইন পাতা হয়েছে—তার সঠিক রেকর্ড না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। ৮ এপ্রিল যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ থেকে মাইন অপসারণ এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রায় ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালিটি আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই পথ দিয়েই পরিবহন করা হয়।
ইরানের অবরোধের কারণে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তেলের দাম বেড়েছে এবং অনেক দেশেই জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
এর মধ্যে ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ১২ এপ্রিল হরমুজ প্রণালি ও ইরানের সামুদ্রিক বন্দরগুলোতে অবরোধ জারির ঘোষণা দেন।
এর প্রায় দুই ঘণ্টা পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ড সেন্টকম জানায়, হরমুজ প্রণালি থেকে মাইন অপসারণের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে।