ঢাকা, শুক্রবার, এপ্রিল ১৭, ২০২৬ | ৪ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

বুরকিনা ফাসোতে ১১৮ এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দিল সামরিক সরকার, মানবাধিকার উদ্বেগ তীব্র


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

বুরকিনা ফাসোতে ১১৮ এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দিল সামরিক সরকার, মানবাধিকার উদ্বেগ তীব্র

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ বুরকিনা ফাসোতে একসাথে শতাধিক এনজিও ও নাগরিক সংগঠন ভেঙে দিয়েছে দেশটির সামরিক সরকার। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলো একে “মৌলিক অধিকারের ওপর সরাসরি আঘাত” বলে মন্তব্য করেছে।

আল জাজিরার শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) প্রকাশিত প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের দমন-পীড়নের অংশ হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে মাত্র কয়েক মাস আগেই একটি ডিক্রির মাধ্যমে দেশটির সব রাজনৈতিক দলও ভেঙে দিয়েছিল সামরিক প্রশাসন।

বুধবার আঞ্চলিক প্রশাসন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ঘোষণা দেয়, “বর্তমান আইনি বিধান অনুযায়ী” মোট ১১৮টি এনজিও ও সংগঠন ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এসব সংগঠন সবই বুরকিনা ফাসোভিত্তিক ছিল এবং বেশিরভাগই মানবাধিকার রক্ষায় কাজ করত।

২০২২ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম ট্রাওরের নেতৃত্বে সরকার এরপর থেকে এনজিও, শ্রমিক সংগঠন, সমাবেশের স্বাধীনতা এবং সামরিক শাসনের বিরোধিতার ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে আসছে।

গত জুলাইয়ে একটি নতুন আইনের মাধ্যমে মানবাধিকার সংগঠন ও ট্রেড ইউনিয়নের কার্যক্রম সীমিত করা হয়। এর এক মাস পর প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে ২১টি সংগঠনের অনুমোদন বাতিল করা হয় এবং আরও ১০টি সংগঠন তিন মাসের জন্য স্থগিত করা হয়।

বুধবারের ঘোষণায় আঞ্চলিক প্রশাসনমন্ত্রী এমিলি জারবো নতুনভাবে নিষিদ্ধ হওয়া সংগঠনগুলোর নেতাদের ২০২৫ সালের আইনের সঙ্গে নিজেদের কার্যক্রম সামঞ্জস্য করতে বলেন। তিনি সতর্ক করে দেন, আইন ভঙ্গ করলে কঠোর শাস্তি দেওয়া হবে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই পদক্ষেপকে দেশটিতে নাগরিক সমাজের ওপর “ক্রমবর্ধমান দমন-পীড়নের প্রমাণ” হিসেবে উল্লেখ করেছে। সংস্থাটির সাহেল অঞ্চলের গবেষক ওসমানি ডিয়ালো বলেন, সংগঠন গঠনের স্বাধীনতার ওপর এটি সরাসরি আঘাত এবং সংবিধানের পরিপন্থি।

তিনি আরও বলেন, এই সিদ্ধান্ত বুরকিনা ফাসোর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বাধ্যবাধকতার সঙ্গেও সাংঘর্ষিক এবং নাগরিক সমাজকে চুপ করিয়ে দেওয়ার একটি বড় প্রচেষ্টার অংশ। তার অভিযোগ, সরকারের পক্ষ থেকে দমনমূলক আইন, ভয়ভীতি, হয়রানি, ইচ্ছামতো আটক এবং মানবাধিকারকর্মীদের বিরুদ্ধে মামলা বাড়ছে।

ক্ষমতায় আসার পর থেকে ট্রাওরের সরকার একের পর এক কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত নভেম্বরে সব দেশীয় ও আন্তর্জাতিক এনজিওকে তাদের ব্যাংক হিসাব বন্ধ করে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকে স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। জানুয়ারিতে তিন বছর স্থগিত থাকার পর সব রাজনৈতিক দলও বিলুপ্ত করা হয়।

বুরকিনা ফাসো দীর্ঘদিন ধরে আল-কায়েদা ও আইএসআইএল সংশ্লিষ্ট সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে লড়াই করছে। সরকারের দাবি, আন্তর্জাতিক অর্থায়ন পাওয়া এনজিওগুলো অনেক সময় এসব গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত বা সহযোগী হিসেবে কাজ করতে পারে—যদিও এই অভিযোগ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে।