ঢাকা, শনিবার, এপ্রিল ১৮, ২০২৬ | ৫ বৈশাখ ১৪৩৩
Logo
logo

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে শতাধিক আটক, ইউরেনিয়াম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কড়া জবাব


এনবিএস ওয়েবডেস্ক   প্রকাশিত:  ১৮ এপ্রিল, ২০২৬, ০৩:০৪ পিএম

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে ইরানে শতাধিক আটক, ইউরেনিয়াম ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের দাবির কড়া জবাব

গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে বড় ধরনের অভিযান চালিয়েছে Iran। এই অভিযানে শত্রুপক্ষের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে শতাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যা দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শনিবার (১৮ এপ্রিল) Al Jazeera-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম Tasnim News Agency জানায়, Islamic Revolutionary Guard Corps (আইআরজিসি)-এর পরিচালিত অভিযানে ১২০ জনের বেশি মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পুরো দেশজুড়ে চালানো এই অভিযানে আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে United States, United Kingdom ও Israel-এর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে। এমনকি তারা শত্রুপক্ষের সামরিক হামলার জন্য পরিস্থিতি তৈরি করতেও সহায়তা করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

আইআরজিসি জানিয়েছে, পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশ থেকে ৭ জন সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনার অবস্থান শত্রুপক্ষের কাছে পাঠানোর অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া মাজানদারান প্রদেশ থেকে আরও ৬৯ জন এবং কেরমান প্রদেশ থেকে ৫১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের তিনটি কথিত ‘গুপ্তচর নেটওয়ার্ক’-এর সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।

তবে Al Jazeera জানিয়েছে, ইরানের এই দাবিগুলো এখনো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

এদিকে ইউরেনিয়াম ইস্যুতে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র Esmaeil Baghaei বলেন, কোনো অবস্থাতেই তাদের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অন্য দেশে হস্তান্তর করা হবে না। তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে ইউরেনিয়াম দেওয়ার বিষয়টি কখনো আলোচনার টেবিলেই আসেনি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump দাবি করেছিলেন, ইরান ইউরেনিয়াম হস্তান্তরে রাজি হয়েছে। তবে তেহরান সেই দাবি সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, সাম্প্রতিক আলোচনা মূলত যুদ্ধ বন্ধের উপায় খোঁজার জন্য হয়েছে—ইউরেনিয়াম নিয়ে কোনো সমঝোতার জন্য নয়। বর্তমানে সংঘাতের অবসান এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দু।

একই সঙ্গে ইরান বলেছে, চলমান যুদ্ধের কারণে যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার ক্ষতিপূরণ পাওয়াও তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কড়া সমালোচনা করেছে তেহরান। তারা বলছে, এটি যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন এবং এ ধরনের পদক্ষেপের জবাব দেওয়া হবে।

এদিকে কিছু প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য কোনো চুক্তির অংশ হিসেবে ইরান যদি ইউরেনিয়াম ছেড়ে দেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের জব্দ করা অর্থ ছাড় দিতে পারে। তবে এই তথ্যও স্পষ্টভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান।